Arvind Kejriwal: তৃণমূলের হয়ে ২৬–২৭ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে আসছেন কেজরিওয়াল
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে তৃণমূল। দলের সমর্থনে প্রচারে অংশ নিতে রাজ্যে আসছেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে আগামী ২৬ ও ২৭ এপ্রিল তিনি বাংলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রথম দফার ভোটে নজিরবিহীন অংশগ্রহণের পর দ্বিতীয় দফা নিয়ে উত্তেজনা চরমে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল চাইছে প্রচারে নতুন গতি আনতে এবং বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা দিতে। সেই লক্ষ্যেই কেজরিওয়ালের মতো জাতীয় স্তরের নেতাকে প্রচারে নামানোর সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রের খবর, কেজরিওয়ালের এই দু’দিনের সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রে জনসভা ও রোড শো আয়োজন করা হবে। শহর, শহরতলি এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ কেন্দ্রেও তাঁর কর্মসূচি থাকতে পারে। পাশাপাশি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যৌথ সভা করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যেতে পারে তাঁকে—যা রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের লক্ষ্য দ্বিমুখী। একদিকে যেমন তৃণমূলের পক্ষে ভোটারদের মধ্যে বার্তা পৌঁছে দেওয়া, অন্যদিকে বিজেপি বিরোধী শক্তিগুলিকে একত্রিত করার ইঙ্গিত দেওয়া। বিশেষ করে শহুরে ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ভোটারদের মধ্যে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের (Arvind Kejriwal) গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যা নির্বাচনে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া, জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি বিরোধী শক্তির মধ্যে সমন্বয়ের যে চেষ্টা চলছে, কেজরিওয়ালের এই সফর সেই প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য জোট রাজনীতির দিকেও এটি একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অরবিন্দ কেজরিওয়াল ইতিমধ্যেই দিল্লি এবং অন্যান্য রাজ্যে তাঁর দলকে শক্তিশালী করতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক সংস্কারের মতো ইস্যুতে তাঁর ভাবমূর্তি শহুরে ভোটারদের মধ্যে একটি আলাদা প্রভাব তৈরি করেছে। তৃণমূল সেই ইমেজকেই কাজে লাগাতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সফরের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস একদিকে যেমন নিজেদের প্রচারকে শক্তিশালী করতে চাইছে, তেমনই জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী রাজনীতিকে আরও জোরদার করার বার্তা দিচ্ছে। কেজরিওয়ালের উপস্থিতি বিশেষ করে তরুণ ও শহুরে ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
দ্বিতীয় দফার আগে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের (Arvind Kejriwal) এই সফর যে নির্বাচনী লড়াইকে আরও জমজমাট করে তুলবে, তা নিশ্চিত। এখন দেখার বিষয়, এই কৌশল কতটা কার্যকর হয় এবং ভোটের ফলাফলে এর প্রতিফলন কতটা দেখা যায়।


