পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে মহিলা ও যুবকদের মাসে ৩ হাজার দেওয়ার ঘোষণা বিজেপির সংকল্পপত্রে
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভোটের আবহে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক তরজা যখন চরমে, তখন শুক্রবার রাজ্যে এসে বিজেপির নির্বাচনী ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। দলের দাবি, প্রায় ১০ হাজার মানুষের পরামর্শ নিয়ে তৈরি হয়েছে এই সংকল্পপত্র, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের মানুষের চাহিদা প্রতিফলিত হয়েছে।
সংকল্পপত্র প্রকাশ করে শাহ বলেন, এটি নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ‘বিকাশিত ভারত’ ভাবনার প্রতিফলন। তাঁর কথায়, “মহিলা থেকে কৃষক—সবস্তরের মানুষের জন্য এই সংকল্পপত্র আশার আলো দেখাবে।” একইসঙ্গে তিনি রাজ্যের শাসক দল ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) কড়া আক্রমণ করে দাবি করেন, গত ১৫ বছরে বাংলায় “সিন্ডিকেট, গুন্ডা এবং অনুপ্রবেশকারীদের দাপট” বেড়েছে।
‘পরিবর্তনের’ ডাক ও রাজনৈতিক বার্তা
শাহ ‘বিকশিত বাংলা’ গড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলার মানুষ এখন পরিবর্তন চান। বিজেপির হাত ধরেই সেই পরিবর্তন সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও ফের উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা গড়া হবে।”
সংকল্পপত্রে কী কী প্রতিশ্রুতি?
বিজেপির ঘোষণাপত্রে একাধিক জনমুখী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহায়তা: নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা ভাতা, বেকার যুবকদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৫,০০০ টাকা অনুদান।
সরকারি কর্মীদের সুবিধা: সপ্তম পে কমিশন অনুযায়ী বেতন ও বকেয়া ডিএ মেটানোর আশ্বাস।
স্বাস্থ্য ও কল্যাণ: আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু, ক্যানসার প্রতিরোধে বিশেষ উদ্যোগ, অন্তঃসত্ত্বাদের এককালীন ২১ হাজার টাকা সহায়তা।
নারী নিরাপত্তা: ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ গঠন এবং সরকারি চাকরিতে ৩৩% সংরক্ষণ।
কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন: ধানের সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি, আলু ও আমচাষিদের জন্য কোল্ড স্টোরেজ, কৃষিপণ্য সরাসরি ক্রয়।
শিল্প ও কর্মসংস্থান: ৫ বছরে ১ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি, স্টার্টআপ ও ক্ষুদ্র শিল্পে জোর, সিঙ্গুরে বিজনেস পার্ক গড়ার পরিকল্পনা।
পরিকাঠামো উন্নয়ন: কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণ, নতুন বন্দর (কুলপি ও তাজপুর), রেলপথ বিস্তার এবং কলকাতা বন্দরের উন্নয়ন।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন: এইমস, আইআইটি, ক্যানসার হাসপাতাল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি।
সাংস্কৃতিক উদ্যোগ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) নামে সাংস্কৃতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, থিয়েটার কেন্দ্র গঠন।
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপ: দুর্নীতির বিরুদ্ধে শ্বেতপত্র প্রকাশ, কয়লা ও বালিপাচার রোধে কড়া ব্যবস্থা।
রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র
এই সংকল্পপত্রকে সামনে রেখে বিজেপি একদিকে যেমন উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছে, অন্যদিকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগও জোরদার করছে। ভোটের আগে এই ঘোষণাপত্র যে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করবে, তা বলাই বাহুল্য।
বিজেপিকে একবার সুযোগ দেওয়ার আর্জি শাহর
শেষে বাংলার মানুষকে উদ্দেশ্য করে শাহের বার্তা, “বামফ্রন্টকে সুযোগ দিয়েছেন, তৃণমূলকেও দিয়েছেন। এবার বাংলার উন্নয়নের জন্য বিজেপিকে একবার সুযোগ দিন।” ‘সোনার বাংলা’ গড়ার ডাক দিয়ে তিনি সকলকে এই উদ্যোগে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।


