Friday, April 10, 2026
Latestকলকাতা

সংবেদনশীল জেলায় ১৪৪ ধারা জারি? ভোটে সিভিক ভলান্টিয়ার ব্যবহারে ফের ‘না’ নির্বাচন কমিশনের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভোটের মুখে ফের কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ (West Bengal Assembly Election 2026)-কে সামনে রেখে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে কমিশন। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ভোটের কাজে সিভিক ভলান্টিয়ার (Civic Volunteers) ও গ্রিন পুলিশ (Green Police) ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালকে (Manoj Kumar Agarwal) পাঠানো চিঠিতে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনওভাবেই সিভিক পুলিশ (Civic Police) বা গ্রিন পুলিশকে (Green Police) ভোটের দায়িত্বে মোতায়েন করা যাবে না। শুধু তাই নয়, ভোটের তিন দিন আগে থেকে ভোটের পরের দিন পর্যন্ত ইউনিফর্ম (Uniform) পরে ডিউটি করতেও নিষেধ করা হয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ারদের।

বুধবার কমিশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়। ভার্চুয়াল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) এবং অন্যান্য নির্বাচনী আধিকারিকরা। বৈঠকে ভোট পরিচালনা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

কমিশন সূত্রে খবর, এ বার ভোটে কড়া নজরদারির জন্য প্রায় ৩ হাজার ক্যামেরা (Cameras) বসানো হবে বুথের ভিতরে ও বাইরে। পাশাপাশি, রাস্তায় জোরদার নাকা চেকিং (Naka Checking) চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি কোনও বুথে ক্যামেরা অকেজো বা বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে সেই বুথে পুনর্নির্বাচন (Re-poll) ঘোষণা করা হবে।

পুনর্নির্বাচন (Re-poll) সংক্রান্ত নির্দেশিকাও পরিষ্কার করেছে কমিশন। শুধু ক্যামেরা বিকল হওয়া নয়, ভোট প্রক্রিয়ায় কোনও রকম গুরুতর অনিয়ম (Irregularities) ধরা পড়লেও দ্রুত পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, ১৪৪ ধারা জারি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। সাধারণত ভোটের সময় বুথের ২০০ মিটার এলাকার মধ্যে ধারা ১৪৪ (Section 144) জারি থাকে, যাতে অযথা জমায়েত (Gathering) বা বিশৃঙ্খলা (Disturbance) এড়ানো যায়। তবে এ বার পর্যবেক্ষকদের একাংশ প্রস্তাব দিয়েছেন, শুধু বুথ নয়—যে সব জেলাকে ‘সংবেদনশীল’ (Sensitive) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানকার বৃহত্তর এলাকাতেই ১৪৪ ধারা জারি করা হোক। 

যদিও এই প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত হয়নি, কমিশন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে বলে সূত্রের খবর।

উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও একইভাবে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভোটের কাজে ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এবারের নির্বাচনেও সেই অবস্থানেই অনড় কমিশন।

ভোটের আগে এই কঠোর পদক্ষেপে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ (Transparent) ও নিরাপদ (Secure) হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন নজর, কমিশনের এই নির্দেশ বাস্তবায়ন কতটা সুষ্ঠুভাবে হয় তার উপর।