Tuesday, March 31, 2026
Latestরাজ্য​

অনুপ্রবেশের অভিযোগে জেল, মুক্তি পেতেই CAA-তে আবেদন করলেন বাংলাদেশি হিন্দু তরুণী

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে CAA ক্যাম্পে নাগরিকত্বের আবেদন করলেন এক বাংলাদেশি তরুণী। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর বেআইনিভাবে ভারতে থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাকে। জেলও খাটেন তিনি। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে CAA তে আবেদন করেছেন তিনি। 

২৭ বছর বয়সী শম্পা সরকার বাংলাদেশের খুলনা জেলার বাসিন্দা। তিনি একাধিকবার বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বনগাঁয় আত্মীয়দের বাড়িতে এসেছিলেন। শেষবার ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ৭ তারিখে ভারতে প্রবেশ করেন তিনি। পরিবারের দাবি, সে সময় বাংলাদেশে অশান্ত পরিস্থিতির জেরে তিনি ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

কিন্তু ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপরও তিনি উত্তর ২৪ পরগনার চাঁদপাড়ায় তাঁর বোনের বাড়িতে থেকে যান। এর জেরে তাঁকে বেআইনি ভাবে ভারতে থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটি বনগাঁ মহকুমা আদালত থেকে শুরু হয়ে পরে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের ২৬ মার্চ আদালত তাঁকে জামিন দেয়।

জেল থেকে মুক্তির কয়েক দিনের মধ্যেই রবিবার ঠাকুরনগরের মতুয়া ঠাকুরবাড়ি ক্যাম্পে গিয়ে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন শম্পা। এই গোটা আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁকে সহায়তা করেছে সর্বভারতীয় মতুয়া মহাসঙ্ঘ, যা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ সংগঠন হিসেবে পরিচিত।

শম্পার দাবি, “বাংলাদেশে চরম অশান্তির কারণে আমি বৈধ কাগজপত্র নিয়ে ভারতে আসি। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আমাকে গ্রেফতার করা হয়। মতুয়া ঠাকুরবাড়ির সহযোগিতায় আমি এখন মুক্ত। আমি চাই স্থায়ীভাবে ভারতের নাগরিক হিসেবে থাকতে।”

তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাঁর ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA), ২০১৯-এর নির্দিষ্ট শর্ত। এই আইনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র সেই সমস্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন, যারা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে প্রবেশ করেছেন।

বনগাঁ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর সমীর দাস জানান, “এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ভারতে আসা প্রার্থীরাই CAA-র আওতায় আবেদন করতে পারবেন। এর বাইরে হলে আইনি জটিলতা তৈরি হবে।”

যদিও আশাবাদী মতুয়া মহাসঙ্ঘ। সংগঠনের সম্পাদক সুখেন গাইনের দাবি, “শম্পা ২০১৪ সালের আগেও একাধিকবার বৈধ নথি নিয়ে ভারতে এসেছিলেন। হাইকোর্ট সেই নথিগুলি খতিয়ে দেখেই তাঁকে জামিন দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, সেই নথির ভিত্তিতেই তাঁর আবেদন গ্রহণ করা হতে পারে।”

ফলে এখন নজর রয়েছে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের দিকে। শম্পা সরকারের আবেদন কি CAA-র আওতায় গ্রহণ করা হবে, নাকি আইনি জটিলতায় তা আটকে যাবে এই প্রশ্নের উত্তরই ঠিক করবে তাঁর ভবিষ্যৎ।