Friday, March 27, 2026
Latestদেশ

পেট্রোল-ডিজেলের আবগারি শুল্ক লিটার প্রতি ১০ টাকা কমালো কেন্দ্রের মোদী সরকার

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম লাগাতার ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি বাজারে চাপ কমাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার পেট্রল ও ডিজেলের উপর আবগারি শুল্ক লিটার প্রতি ১০ টাকা করে কমানোর ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে পেট্রোলের উপর শুল্ক নেমে এসেছে ৩ টাকায়, আর ডিজেলের ক্ষেত্রে শুল্ক কার্যত শূন্যে নেমেছে।

সরকারের এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে আশা করা হলেও, বাস্তবে তার প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যে তেল কিনতে গিয়ে যে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে তেল বিপণন সংস্থাগুলি, এই শুল্ক হ্রাস মূলত সেই ক্ষতি পূরণের পথই প্রশস্ত করবে।

ইতিমধ্যেই জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দৈনন্দিন জীবনে। এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে, পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলিও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে। সম্প্রতি নায়ারা এনার্জি পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৩ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করেছে, যা কার্যকর হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকেই।

বিশ্ববাজারে অস্থিরতার অন্যতম কারণ ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয়। সেখানে বিঘ্ন ঘটায় অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। এর জেরে দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলি বর্তমানে প্রতি লিটার জ্বালানিতে প্রায় ৪৮.৮ টাকা পর্যন্ত লোকসানের মুখে পড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রের শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তকে অনেকেই সময়োপযোগী বলছেন। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এই সিদ্ধান্তে পাম্পে গিয়ে কি সত্যিই কম দামে তেল পাবেন গ্রাহক? নাকি এই ছাড়ের বড় অংশই চলে যাবে সংস্থাগুলির লোকসান পোষাতে?

সব মিলিয়ে, যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। কেন্দ্রের পদক্ষেপ পরিস্থিতি সামাল দিতে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।