Thursday, March 26, 2026
Latestরাজ্য​

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাম নবমী পালনের অনুমতি চেয়ে ডেপুটেশন ABVP-র

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আসন্ন রাম নবমী (Ram Navami) উদ্‌যাপনের দাবি জানালো অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (Akhil Bharatiya Vidyarthi Parishad)। এর জন্য ইতিমধ্যেই ABVP-এর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে একটি ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের তরফে দাবি জানানো হয়েছে, ক্যাম্পাসের ভিতরে শান্তিপূর্ণভাবে রামনবমী উদ্‌যাপনের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় অনুমতি দিতে হবে।

ABVP-র প্রতিনিধিরা জানান, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট চত্বরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করতে চান। এর মধ্যে থাকবে পুজো, ভক্তিমূলক সংগীত, প্রসাদ বিতরণ এবং ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে ছোট পরিসরের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগঠনের দাবি, এই অনুষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে নিয়ম মেনে এবং কোনওরকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই আয়োজন করা হবে।

তাঁদের বক্তব্য, “রাম নবমী শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে এই উৎসব উদ্‌যাপনের সুযোগ থাকা উচিৎ।”

ডেপুটেশনে ABVP লিখেছে, ‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি (ABVP) ইউনিটের ছাত্রছাত্রীরা ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণভাবে রাম নবমী উদযাপনের জন্য আপনার অনুমতি প্রার্থনা করছে। এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য হলো রাম নবমীর সাংস্কৃতিক উৎসবকে মর্যাদার সঙ্গে পালন করা।

অনুষ্ঠানের বিস্তারিত:

তারিখ: ২৬ মার্চ ২০২৬

সময়: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা

স্থান: কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাস, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

কার্যক্রম: পুজো, ভজন (ধর্মীয় সংগীত) এবং প্রসাদ বিতরণ

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে এবং পড়াশোনার কোনো ব্যাঘাত না ঘটিয়ে আয়োজন করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ABVP-র ডেপুটেশন গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে যে কোনও ধরনের কর্মসূচির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়মাবলী মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। নিরাপত্তা, ক্যাম্পাসের পরিবেশ এবং অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থের দিকটি মাথায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি দেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবদিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই ঘটনাকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একাংশের ছাত্রছাত্রী ABVP-র দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বলছেন, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রাখা উচিত। তাদের মতে, শান্তিপূর্ণভাবে কোনও অনুষ্ঠান হলে তাতে আপত্তির কিছু নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শুধু একটি সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে ছাত্ররাজনীতি এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও জড়িত। ABVP-র মতো একটি জাতীয় স্তরের ছাত্র সংগঠনের এই উদ্যোগকে অনেকেই বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখছেন।

সব মিলিয়ে, এখন নজর রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দিকে। তারা কি ABVP-র দাবিতে সাড়া দিয়ে রামনবমী উদ্‌যাপনের অনুমতি দেবে, নাকি ক্যাম্পাসের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ভিন্ন কোনও সিদ্ধান্ত নেবে—তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।