Saturday, May 2, 2026
দেশ

CAA মেনেই আফগান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, জানালো মোদী সরকার

কলকাতা ট্রিবিউন: গোটা আফগানিস্তানের দখল নিয়েছে তালিবানরা। চলছে ভয়াবহ অত্যাচার। প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন আফগান নাগরিকরা। এই পরিস্থিতিতে সবথেকে বিপদে পড়েছেন ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের মানুষরা। তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো কেন্দ্রের মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) অধীনেই অ-মুসলিম আফগান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে ২০১৯ সালে সিএএ পাশ করিছিল মোদী সরকার। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় অত্যাচারের কারণে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, পার্সি, জৈন ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত।

এই আইনের তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিরোধীরা। সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদের এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্র জানিয়েছিল, এখনো সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের নিয়মকানুন তৈরি করে উঠতে পারেনি সরকার। এর জন্য আরো সময় চাই। এর মধ্যেই আফগানিস্তান সংকট দেখা দিলো এবং ফের সিএএ বিষয়টি সামনে আসলো।

এদিকে বিরোধীদের দাবি, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি বিচার করে মানবিকতার পরিচয় দিয়ে ধর্মনির্বিশেষে সকল আফগান নাগরিককে নাগরিকত্ব দেওয়া হোক। তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বিজেপি দাবি করেছে, প্রতিবেশী তিনটি মুসলিম প্রধান দেশের সংখ্যালঘুদের আশ্রয় দেওয়ার মতো একমাত্র ভারতই রয়েছে! সংখ্যালঘুরা মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশগুলোতে প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, সেখানে সংখ্যাগুরু মুসলিমরা, তাই তাদের ওপর অত্যাচার হওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা গিয়েছে, শুধু অমুসলিম নয়, আফগান মুসলিমরাও জঙ্গিগোষ্ঠী তালিবানের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে বিজেপি জানিয়েছে, মানবতার খাতিরে ইতিমধ্যেই আফগান নাগরিকদের ই-ভিসা দেওয়া শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভবিষ্যতেও তাদের জন্য ই-ভিসা প্রক্রিয়া চালু থাকবে।