Monday, December 15, 2025
Latestদেশ

রাশিয়া সঙ্গে মউ স্বাক্ষর, ভারতেই তৈরি হবে যাত্রীবাহী বিমান

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে আরও এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। বিদেশি নির্ভরতা কমাতে এবং বিমান শিল্পে দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে এবার ভারতে তৈরি হতে চলেছে সম্পূর্ণ যাত্রীবাহী বিমান। এই উদ্দেশ্যে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘ইউনাইটেড এয়ারক্রাফট কর্পোরেশন’ (UAC)-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বা মউ (MoU)-এ স্বাক্ষর করেছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘হিন্দুস্তান এরোনটিকস লিমিটেড’ (HAL)। গত ২৭ অক্টোবর মস্কোতে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সাক্ষরিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের মাটিতে তৈরি হবে এসজে-১০০ (SJ-100) নামের মাঝারি মাপের যাত্রীবাহী বিমান। দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট এই আধুনিক বিমানটি বর্তমানে বিশ্বের ১৬টি বাণিজ্যিক সংস্থা ব্যবহার করছে। স্বল্প দূরত্বের যাত্রায় এটি অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘উড়ান’ প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এই বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহনে ২০০টিরও বেশি মাঝারি দূরত্বের বিমানের প্রয়োজন হবে। তাছাড়া, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পর্যটন ও ব্যবসায়িক সংযোগ বৃদ্ধির জন্য আরও ৩৫০টির বেশি বিমানের প্রয়োজন রয়েছে। সেই চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা নেবে দেশে তৈরি এই নতুন বিমান।

হ্যালের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “হ্যাল এবং ইউএসি-র মধ্যে এই সহযোগিতা দুই সংস্থার পারস্পরিক আস্থা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রতিফলন। এই প্রথমবার ভারতে সম্পূর্ণ যাত্রীবাহী বিমান তৈরি করা হবে, যা আত্মনির্ভর ভারতের ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করবে।”

ইতিহাস বলছে, হ্যালের উদ্যোগে দেশে প্রথম যাত্রীবাহী বিমান তৈরির সূচনা হয়েছিল ১৯৬১ সালে, যখন তৈরি হয় অভ্র এইচএস-৭৪৮ (Avro HS-748)। তবে ১৯৮৮ সালে সেই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। তিন দশকেরও বেশি সময় পর ফের হ্যালের এই উদ্যোগে বিমান শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে বিশ্বের যাত্রীবাহী বিমান বাজারে আধিপত্য রয়েছে মার্কিন বোয়িং (Boeing) ও ইউরোপীয় এয়ারবাস (Airbus) সংস্থার হাতে। ভারতের এই উদ্যোগ সফল হলে, দেশ বিদেশি সংস্থাগুলির উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং বিমান শিল্পে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধিতেও এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে চলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সফল হলে কেবল হ্যাল নয়, গোটা ভারতীয় বিমান শিল্পই পাবে নতুন গতি — এবং আত্মনির্ভরতার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে ভারত।