বিরাট কর্মসংস্থানের সুযোগ, ভারত থেকে ৩১ লাখ দক্ষ কর্মী নেবে রাশিয়া
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ভয়াবহ শ্রমিক সংকটে পড়েছে রাশিয়া। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক সেনার মৃত্যু এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যার হ্রাস রুশ অর্থনীতিতে বড়সড় চাপ তৈরি করেছে। এই ঘাটতি পূরণে এবার বন্ধু দেশ ভারতের দিকে হাত বাড়াল মস্কো।
রাশিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত থেকে ৩১ লাখ দক্ষ কর্মী নিতে চায় দেশটি। ইতিমধ্যে নয়াদিল্লি ও মস্কোর মধ্যে এ বিষয়ে একটি চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরেই ১০ লাখ ভারতীয় কর্মীকে রাশিয়ায় পাঠানো হবে। মূলত নির্মাণশিল্প ও বস্ত্রশিল্পে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের সরকারি ও আধাসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদেও সুযোগ দেওয়া হবে।
রাশিয়ায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার বার্তাসংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “রাশিয়ায় বৃহত্তর স্তরে কর্মীর চাহিদা রয়েছে। অন্যদিকে ভারতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি নেই। নিয়মকানুন ও আইন মেনে ভারতীয়দের নিয়োগ করতে রাশিয়া এখন বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে।”
বিপুল সংখ্যক ভারতীয় কর্মীকে সহায়তা দিতে নতুন একটি বিশেষ দূতাবাসও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিনয় কুমারের কথায়, প্রস্তাবিত এই দূতাবাসটি শুধুমাত্র ভারতীয় শ্রমিকদের পাসপোর্ট, ভিসা, জন্মনিবন্ধনসহ নানা প্রশাসনিক পরিষেবা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হবে।
এদিকে দিল্লিভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ায় ভারতীয় শ্রমিকদের আগমন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যেখানে ২০২১ সালে মাত্র ৫ হাজার ৪৮০ জন ভারতীয় ওয়ার্ক পারমিট পেয়েছিলেন, সেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ২০৮ জনে। অর্থাৎ পাঁচ বছরে ওয়ার্ক পারমিটপ্রাপ্ত ভারতীয় কর্মীর সংখ্যা প্রায় সাত গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা রাশিয়ার অর্থনীতিতে ভারতীয় জনশক্তির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরছে। বিশেষ করে এমন সময়, যখন ইউক্রেন যুদ্ধে ইতিমধ্যেই ১০ লাখেরও বেশি রুশ সেনার মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের একটি বড় অংশই ছিলেন অনিয়মিত—অর্থাৎ সাধারণ নাগরিক, যারা রাষ্ট্রের আহ্বানে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে জনশক্তি হারানোর পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যেও রাশিয়া আজ মারাত্মক শ্রমিক সংকটে পড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় কর্মীরা রাশিয়ার অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


