Tuesday, March 3, 2026
Latestদেশ

ভারতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ‘রেলোস’ চুক্তির অনুমোদন রাশিয়ার

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পুতিনের ভারত সফরের আগে নয়াদিল্লির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহযোগিতা চুক্তিকে অনুমোদন দিল রাশিয়ার পার্লামেন্ট ‘স্টেট ড্যুমা’। ২ দিনের সফরে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে পৌঁছবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে অনুষ্ঠিত হতে চলা ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন পুতিন।

রেলোস চুক্তি কী?

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ‘রেসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অফ লজিস্টিক সাপোর্ট’ বা রেলোস চুক্তি সই হয়েছিল। এবার স্টেট ড্যুমার অনুমোদন পেয়ে কার্যকর হওয়ার পথে। চুক্তি অনুযায়ী, 

২ দেশের সামরিক বাহিনী পরস্পরের ভূখণ্ডে সামরিক পরিকাঠামো ব্যবহার করতে পারবে।

সৈন্য, অস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমান পাঠানো সহজ হবে।

যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, মানবিক সহায়তা, ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানে লজিস্টিক সহায়তা মিলবে।

একে অপরের আকাশসীমা ও বন্দর সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

স্টেট ড্যুমার স্পিকার ভ্যাচেস্লাভ ভোলোদিন এই সম্পর্ককে ‘সার্বিক ও কৌশলগত’ বলে উল্লেখ করেছেন।

রাশিয়া-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্ক

রাশিয়ার ফার্স্ট ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার ডেনিস মন্তুরেভ জানিয়েছেন, ভারত–রাশিয়া সামরিক সহযোগিতার মূল ভিত্তি হল যৌথ উদ্ভাবন, উৎপাদন এবং স্থানীয় পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অস্ত্র ব্যবহারের পদ্ধতি। তাঁর দাবি, ভারতের মোট সামরিক সরঞ্জামের ৩০ শতাংশেরও বেশি রাশিয়ার থেকে আমদানি করা।

রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, পুতিন-মোদী বৈঠকে আধুনিক সুখোই–৫৭ যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার অধিকাংশ স্কোয়াড্রন রাশিয়ার তৈরি সুখোই–৩০ বিমানে গঠিত।

এছাড়া আরও এস–৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা নিয়েও আলোচনা সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী ভারত ইতিমধ্যেই তিনটি এস–৪০০ পেয়েছে, আরও দুটি ডেলিভারি বাকি।

এএনআই সূত্রে খবর, ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নততর সংস্করণ ক্রয়ের বিষয়টিও আলোচনা হবে।

সহযোগিতার পরিধি কতদূর? সিদ্ধান্ত ভারতের

পুতিনের সফরের আগে মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়া ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী, তবে কতটা বাড়ানো হবে তা নির্ভর করছে ভারতের আগ্রহের ওপর। তার মন্তব্য, চিনের মতো ভারতও রাশিয়ার বিশেষ কৌশলগত সহযোগী, তবে দুই দেশের সম্পর্ক কোনও তৃতীয় পক্ষের চাপে পড়া উচিত নয়।

ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্কো ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার বার্তা দিচ্ছে। যদিও ভারতের অবস্থান রাশিয়া ও চিন উভয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আমেরিকা-বিরোধী জোটের অংশ নয়। জিন্দাল স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের ডিন শ্রীরাম চাউলিয়া বলেছেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে না; উন্নয়ন পথেও পশ্চিমা সহযোগিতা অপরিহার্য। তাই রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্র—কাউকেই ছাড় দিয়ে অন্য কাউকে অগ্রাধিকার দেবে না দিল্লি।