ভোটের আগে উত্তাপ! পানিহাটিতে অভয়ার মায়ের উপর হামলার অভিযোগ
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। চারদিকে প্রচারের ঝড়ের মধ্যেই বাড়ছে সংঘর্ষ, অশান্তি এবং পারস্পরিক অভিযোগের ঘটনা। গণতন্ত্রের অন্যতম বড় উৎসবের আগে এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে—ভোট কি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে?
এই আবহেই নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পানিহাটির ইলিয়াস রোড। অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থী তথা অভয়ার মা রত্না দেবনাথ প্রচারে বের হলে আচমকাই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। বিজেপির দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা কর্মীরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত। শুধু প্রার্থীই নন, তাঁর সঙ্গে থাকা একাধিক কর্মীকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
Even a grieving mother fighting for justice is not spared under #MahaJungleRaj ⚠️
Today, BJP candidate from Panihati, Mrs Ratna Debnath was attacked in broad daylight by TMC goons.
How much more will the TMC attack this Bengali family just because they have demanded justice⁉️… pic.twitter.com/KcotNM7bms
— BJP West Bengal (@BJP4Bengal) April 8, 2026
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। প্রশ্ন উঠছে, একজন মহিলা প্রার্থীকে প্রকাশ্যে এভাবে আক্রমণ করা কি শুধুই রাজনৈতিক বিরোধ, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও উদ্দেশ্য?
অন্যদিকে, তৃণমূল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, রত্না দেবনাথ প্রচারের সময় রাজ্যের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন। সেই কারণেই স্থানীয় মহিলারা প্রতিবাদে সামিল হন। যদিও বিরোধীদের প্রশ্ন, প্রতিবাদ কি কখনও সহিংস হতে পারে? মতের অমিল থাকলেই কি শারীরিক আক্রমণ গ্রহণযোগ্য?
ঘটনার পর রত্না দেবনাথ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “এই হামলা শুধু আমার উপর নয়, গণতন্ত্রের উপর আঘাত। যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আইনি পথে লড়াই চালানো হবে এবং দোষীদের জেলে পাঠানো হবে।
তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কি বিতর্ক থামছে? বরং এই ঘটনাকে ঘিরে আরও বড় প্রশ্ন সামনে আসছে, রাজনীতিতে ভিন্ন মত প্রকাশের পরিসর কি ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে?
ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা নিঃসন্দেহে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সাধারণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা, রাজনৈতিক লড়াই হোক মতাদর্শে, হিংসায় নয়। এখন দেখার, প্রশাসন এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয় এবং আদৌ পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।


