অক্সফোর্ডে বিক্ষোভের মুখে মুখ্যমন্ত্রী, উঠলো গো ব্যাক স্লোগান
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিক্ষোভের মুখোমুখি হন। যেখানে দর্শকদের স্লোগান ও প্রশ্নে বক্তৃতার তাল কেটে যায় মুখ্যমন্ত্রীর। প্রশ্ন উঠে আসে শিল্পায়নে টাটা, আরজি কর কান্ড ও ধর্ম সম্পর্কিত নানা বিষয় নিয়ে।
লন্ডন সফরে গিয়ে বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বক্তৃতার মাঝে তাঁকে দর্শকরা তাদের তীক্ষ্ণ প্রশ্নে ও স্লোগানে বাঁধা দেন। কটূক্তির জবাবে ১৯৯০ এর দশকে হাজরায় তাঁর আক্রান্ত হওয়ার সময়ের একটি ছবি তুলে ধরেন।দাবি করেন বিরোধী দলে থাকাকালীন তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কেলগ কলেজের প্রেক্ষাগৃহ ‘ দ্য হাব’ এ বক্তৃতা শুরু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী । রাজ্যের শিল্পায়ন সম্পর্কে মুখ খুলতেই দর্শকাসন থেকে প্রশ্ন আসে রাজ্য থেকে টাটা বিদায়ের প্রসঙ্গে। উত্তরে মমতা বলেন, “টাটাগোষ্ঠী রাজ্যে বিনিয়োগ করেছে। টাটাদের গাড়ির কারখানা হয়নি। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখুন, খড়গপুরে টাটাদের ইন্ডাস্ট্রি আছে, রাজারহাট এলাকায় টাটার আইটি অফিস রয়েছে। না ভাই, আমি কোনও মিথ্যে বলছি না। আপনারা খোঁজ নিন।” প্রশ্ন আসে আর জি কর প্রসঙ্গ নিয়ে। তার উত্তরে তিনি বলেন “এটা বিচারাধীন বিষয়। আর কেন্দ্রীয় সরকার এই মামলার দায়িত্বভার নিয়েছে। এই মামলার তদন্তভার আমাদের হাতে নেই। দয়া করে রাজনীতি করবেন না। এটা রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। সেটা আমার রাজ্যে আমার সঙ্গে করতে পারেন। কিন্তু এখানে নয়। আপনি আমার থেকে ভালো জানেন, সেটা ক্রাউড ফান্ডিং হোক বা অন্য কিছু।”
বঙ্গে হিন্দুদের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করেন এক দর্শক। তাঁর জবাবে বলেন “আমি হিন্দু, মুসলিম, শিখ এবং খ্রিস্টান সকলের জন্য কাজ করি।” তিনি দর্শকদের হাজরায় তাঁর আক্রান্ত হওয়ার ছবি দেখান। উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে একজন বলেন “এগুলো নাটক ” এবং তাঁকে গো ব্যাক স্লোগান দেন। সেই দর্শককে তিনি বলেন “নাটক নয় “। তিনি বিক্ষোভকারীদের বলেন, “আপনারা আমাকে অপমান করছেন না। আপনারা এইসব করে আপনাদের প্রতিষ্ঠানকে অপমান করছেন। এটা করবেন না।”
বক্তৃতার শেষে এই বাক্ বিতন্ডাকে নিয়ে তিনি বলেন ” হিংসার কোনো ওষুধ নেই “। এই দিনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পাসপোর্ট ক্লোজ করে ওঁকে অবিলম্বে ফেরত আনা উচিত! সরকারি টাকায় গিয়ে যা করছেন !” কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী বলেন ” লন্ডনে গিয়ে শিল্প, চাকরি হবে কি না, সেই সবের কোনও কথা নেই। মুখ্যমন্ত্রী শুধু প্রাতঃভ্রমণের ছবি দেখাচ্ছেন। “

বর্ষা দাস গুরুদাস কলেজ থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় পিজি ডিপ্লোমা করেছেন। অবসর সময়ে ঘুরতে, লেখালেখি করতে ভালোবাসেন।

