পুলওয়ামা হামলায় শহিদ হন স্বামী, ভারতীয় সেনায় যোগ দিলেন স্ত্রী নীতিকা কৌল
চেন্নাই: ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা হামলার স্মৃতি আজও দেশবাসীর মনে দগদগে। বিয়ের মাত্র ৯ মাসের মধ্যেই পুলওয়ামা হামলায় শহিদ হন মেজর বিভূতিশঙ্কর ধোন্দিয়াল। স্বামীর প্রয়াণের ৬ মাসের মধ্যেই নীতিকা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনিও সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো নীতিকার। ভারতীয় সেনার লেফটেন্যান্ট পদে যোগ দিলেন তিনি।
শনিবার তামিলনাড়ুর অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে নীতিকার কাঁধে তারা আটকে দিলেন ভারতীয় সেনার নর্দান কমান্ড লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াই কে যোশী। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তাঁদের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে সেই মুহুর্তের ভিডিও পোস্ট করে। মুহুর্তেই ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী সকলেই নীতিকাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন।
Lt Nitika Kaul gives befitting tribute to her husband #MajVibhutiShankarDhoundiyal, SC(P) who made supreme sacrifice at #Pulwama 2019; As she dons the Olive Green #IndianArmy uniform. A proud moment as #LtGenYKJoshi, #ArmyCdrNC pips the stars on shoulders & welcomes her to #AOC pic.twitter.com/Hg9NQlJtjT
— NorthernComd.IA (@NorthernComd_IA) May 29, 2021
টুইটে লেখা হয়েছে, মেজর বিভূতিশঙ্কর ধোন্দিয়াল ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলায় শহিদ হন। শৌর্যচক্র প্রাপ্ত সেই বীর শহিদের স্ত্রী নিকিতা কৌল আজ ভারতীয় সেনায় যোগ দিলেন। নর্দার্ন কম্যান্ডের লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াই কে জোশী তাঁর কাঁধে তারা আটকে দেন।
পুলওয়ামা হামলায় শহিদ বিভূতিশঙ্করকে মরণোত্তর শৌর্য চক্র সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। স্বামীর কফিনবন্দি দেহের উপর কাঁদতে কাঁদতে নীতিকাকে বলতে শোনা হয়, ‘তুমি বলেছিলে তুমি আমাকে ভালবাসো। কিন্তু সত্যিটা হল, দেশকে তুমি তার চেয়ে অনেক বেশি ভালবাসো। আমি সত্যিই গর্বিত। আমরা সবাই তোমাকে ভালোবাসি। তোমাকে আমার স্বামী হিসেবে পেয়ে আমি গর্বিত। আমার জীবন তোমাকেই উত্সর্গ করেছি।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে শর্ট সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন নীতিকা। তারপর ইন্টারভিউতে পাশ করেন। গত ২৬ মে চেন্নাইয়ে অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমি থেকে পাশ করেন। এর পর শনিবার যোগ দিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে। প্রয়াত স্বামীকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন নীতিকা।

গুরুদাস কলেজ থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ডিজিটাল সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত।

