ইসরায়েলের থেকে ৬টি ‘মিড এয়ার রিফুয়েলিং’ বিমান কিনছে ভারতীয় বায়ুসেনা
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান। আরও ৬টি ‘মিড এয়ার রিফুয়েলিং’ বা মাঝ-আকাশে জ্বালানি ভরার বিমান কিনছে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)। যুদ্ধ বা দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের সময় জ্বালানির জন্য বারবার অবতরণের সমস্যার সমাধান করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ইজরায়েলের সরকারি সংস্থা ইজরায়েল এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রিজ (Israel Aircraft Industries – IAI)-এর সঙ্গে শীঘ্রই একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। চুক্তি সম্পন্ন হলে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকায় ৬টি বোয়িং-৭৬৭ বিমান ‘মিড এয়ার রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার’-এ রূপান্তরিত করা হবে।
🇮🇱 ইজরায়েলের সঙ্গে বড় চুক্তি
সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তি সম্পন্ন হলে IAI তাদের পুরনো ও ব্যবহৃত বোয়িং-৭৬৭ বাণিজ্যিক বিমানগুলিতে বিশেষ প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনবে। সেই বিমানে রিফুয়েলিং ব্যবস্থা সংযোজনের পর সেগুলি বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়া হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দেওয়া নির্দেশ অনুসারে, টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল— প্রতিটি বিমানে অন্তত ৩০ শতাংশ দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। রাশিয়া ও ইউরোপের বেশ কিছু সংস্থা প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও, এই শর্ত ও অন্যান্য মানদণ্ডে সেরা প্রমাণিত হয় ইজরায়েলের IAI।
🇮🇳 বায়ুসেনায় রিফুয়েলিং বিমানের ঘাটতি
বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে আছে মাত্র ৬টি রাশিয়া-নির্মিত IL-78 ট্যাঙ্কার বিমান, যা মূলত আগ্রা ঘাঁটিতে মোতায়েন রয়েছে। এগুলির মাধ্যমেই বায়ুসেনা এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমানে মাঝ-আকাশে জ্বালানি ভরার কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ প্রস্তুতি, সীমান্ত নজরদারি ও দীর্ঘ অভিযানের কারণে এই বিমানের সংখ্যা অনেক দিন ধরেই অপ্রতুল হয়ে পড়েছে।
গত ১৫ বছরে বারবার চেষ্টা করেও নতুন রিফুয়েলিং বিমান সংগ্রহে সফল হয়নি ভারত। তাই সাময়িক প্রয়োজন মেটাতে একটি ট্যাঙ্কার বিমান ভাড়ায় নিয়েছিল বায়ুসেনা। নতুন চুক্তি সম্পন্ন হলে সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে বলে প্রতিরক্ষা মহলের ধারণা।
✈️ কীভাবে কাজ করে ‘মিড এয়ার রিফুয়েলিং’ বিমান?
যুদ্ধবিমান বা কৌশলগত বিমানের দীর্ঘ সফরের সময় মাঝ-আকাশে জ্বালানি ভরার একমাত্র উপায় হল ট্যাঙ্কার বিমান। যুদ্ধবিমানটি ট্যাঙ্কারের কাছাকাছি পৌঁছে প্রথমে চালকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। এরপর ট্যাঙ্কার বিমানের শরীর থেকে বেরিয়ে আসে একটি ফুয়েল ট্রান্সফার পাইপ বা বুম। যুদ্ধবিমানের জ্বালানি ট্যাঙ্কের মুখে পাইপটি সংযুক্ত করা হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তেল সরবরাহ সম্পন্ন হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ঝুঁকিপূর্ণ, যা দক্ষ সমন্বয় এবং উন্নত প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল।
🔰 কৌশলগত গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ৬টি নতুন ট্যাঙ্কার বিমান যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনার লং-রেঞ্জ অপারেশনাল ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পাকিস্তান, চিন কিংবা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত মোতায়েনের ক্ষেত্রে মাঝ-আকাশে জ্বালানি ভরার ক্ষমতা বায়ুসেনাকে আরও শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর করে তুলবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, “IAI-এর সঙ্গে এই চুক্তি শুধু প্রযুক্তিগত নয়, কৌশলগত ক্ষেত্রেও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি ভবিষ্যতের যুদ্ধ প্রস্তুতির জন্য গেমচেঞ্জার প্রমাণিত হতে পারে।”


