Al Hind Air, FlyExpress and Shankh Air: ৩টি নতুন বিমান সংস্থা শঙ্খ এয়ার, আল হিন্দ এয়ার এবং ফ্লাইএক্সপ্রেসকে ছাড়পত্র
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দিনকয়েক আগে দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল ব্যবস্থায় ইন্ডিগো বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল। এই ঘটনার পর প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পথে হাঁটলো কেন্দ্রীয় সরকার। ৩টি নতুন বিমান সংস্থাকে উড়ান শুরুর প্রস্তুতির জন্য অনুমোদন দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক। এই সংস্থাগুলি হল— শঙ্খ এয়ার, আল হিন্দ এয়ার এবং ফ্লাইএক্সপ্রেস।
বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী কে. রামমোহন নাইডু মঙ্গলবার এক্সে (প্রাক্তন টুইটার) এক পোস্টে এই অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মন্ত্রক এই তিনটি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। শঙ্খ এয়ার আগেই নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) পেয়েছে, অন্যদিকে আল হিন্দ এয়ার ও ফ্লাইএক্সপ্রেসকে চলতি সপ্তাহেই এনওসি মঞ্জুর করা হয়েছে।
ভারতে অভ্যন্তরীণ বিমান যাত্রীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও, সেই অনুপাতে বিমান সংস্থার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি। বর্তমানে দেশে মাত্র ৯টি নির্ধারিত ডমেস্টিক বিমান সংস্থা সক্রিয় রয়েছে। অক্টোবরে আঞ্চলিক ক্যারিয়ার ফ্লাই বিগ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ায় এই সংখ্যা আরও কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধির তুলনায় বিমানের ঘাটতি বাজারে চাপ তৈরি করছে।
বর্তমানে ভারতের ডমেস্টিক বিমান বাজার কার্যত ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপের দখলে। এই দুই গোষ্ঠী মিলিয়ে বাজারের ৯০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। ইন্ডিগো একাই প্রায় ৬৫ শতাংশের বেশি বাজার দখল করে রেখেছে। চলতি মাসের শুরুতে ইন্ডিগোতে একাধিক ফ্লাইট ব্যাহত হওয়ায় সারা দেশে হাজার হাজার যাত্রী সমস্যায় পড়েন, যা একচেটিয়া নির্ভরতার ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করেছে।
নতুন অনুমোদিত সংস্থাগুলির মধ্যে আল হিন্দ এয়ার কেরালা ভিত্তিক আলহিন্দ গ্রুপের। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই ভ্রমণ ও সংশ্লিষ্ট পরিষেবার ক্ষেত্রে সক্রিয়। অন্যদিকে ফ্লাইএক্সপ্রেস এমন সময়ে বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা করছে, যখন বিমান যাত্রার চাহিদা শক্তিশালী হলেও প্রতিযোগিতা সীমিত। শঙ্খ এয়ার ২০২৬ সালে ফ্লাইট পরিষেবা শুরু করতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তবে বাণিজ্যিক উড়ান শুরুর আগে তিনটি সংস্থাকেই এখনও একাধিক নিয়ন্ত্রক ও পরিচালনাগত ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।
মন্ত্রী রামমোহন নাইডু জানান, ভারতের বিমান পরিবহন খাত যে গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে, সেই প্রেক্ষিতে নতুন বিমান সংস্থাকে উৎসাহ দেওয়া সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। তিনি উড়ান (UDAN) প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন, যার লক্ষ্য ছোট শহর ও মফস্বল এলাকাকে বিমান পরিষেবার আওতায় আনা।
উড়ান প্রকল্পের অধীনে স্টার এয়ার, ইন্ডিয়া ওয়ান এয়ার ও ফ্লাই৯১-এর মতো সংস্থাগুলি এমন রুটে ফ্লাইট চালু করেছে, যেখানে আগে বিমান যোগাযোগ ছিল না বা খুবই সীমিত ছিল। মন্ত্রকের মতে, এই ধরনের আঞ্চলিক পরিষেবা আরও সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
ডিজিসিএ-র তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে পরিচালিত নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলি হল- ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, অ্যালায়েন্স এয়ার, আকাশা এয়ার, স্পাইসজেট, স্টার এয়ার, ফ্লাই৯১ এবং ইন্ডিয়া ওয়ান এয়ার।
তবে অতীত অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দিচ্ছে যে বিমান চলাচল ব্যবসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আর্থিক চাপ সামলাতে না পেরে জেট এয়ারওয়েজ ও গো ফার্স্ট-এর মতো বড় সংস্থাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নতুন বিমান সংস্থাগুলি আদৌ কতটা টিকে থাকতে পারবে, তা নির্ভর করবে খরচ নিয়ন্ত্রণ, পরিষেবার মান এবং বাজার প্রতিযোগিতার উপর।


