Tuesday, March 3, 2026
Latestদেশ

NIA-এর নজরে চিকিৎসক শাহিন, শাহিদের ভাই পারভেজের বাড়িতে অভিযান, বাজেয়াপ্ত মোবাইল-সহ একাধিক ডিভাইস

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। এদিকে, ফরিদাবাদ সন্ত্রাসী মডিউলে গ্রেপ্তার ডঃ শাহিন শহিদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বিপুল বিস্ফোরক ও নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে। দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু এবং ৮ জনের আহত হয়েছে।

মহিলা চিকিৎসক থেকে জইশের মুখপাত্র?

লখনউয়ের বাসিন্দা এবং চিকিৎসক ডঃ শাহিন শহিদকে জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed বা JEM) মহিলা শাখা গঠন ও নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। পাকিস্তান-ভিত্তিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহারের নেতৃত্বে এই মহিলা শাখা — জামাত-উল-মোমিনাত — ভারতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিল বলে জানা গেছে।

তদন্তকারীদের দাবি, শাহিন সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন ফোরামের মাধ্যমে ভারতে জইশের মহিলা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছিলেন। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশজুড়ে তরুণীদের চরমপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত করা হচ্ছিল।

লালকেল্লা বিস্ফোরণের সূত্র

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল সূত্রে খবর, শাহিন এবং কাশ্মীরের চিকিৎসক ডঃ মুজাম্মিল গণাইয়ের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। মুজাম্মিল গণাই বর্তমানে গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের রসদ সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ শাহিনের গাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল এবং বেশ কিছু গোপন নথি।

তদন্তে আরও জানা গেছে, শাহিনের নির্দেশেই দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বিস্ফোরক — অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট — সংগ্রহ করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া ২,৯০০ কিলোগ্রামেরও বেশি বিস্ফোরক থেকে বোঝা যাচ্ছে, এই মডিউল দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ছিল।

তদন্তে এনআইএ

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব এখন জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)-র হাতে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের তত্ত্বাবধানে তদন্ত এগোচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সীমান্তের ওপারে থাকা হ্যান্ডলারদের সাথে শাহিনের সরাসরি যোগাযোগ ছিল।

এনআইএ এখন খতিয়ে দেখছে, কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা পেশাকে আড়াল করে এই মডিউল অর্থায়ন ও নিয়োগের কাজ চালাত।

পরিবারের উপর নজর

শাহিনের গ্রেপ্তারের পর তার ভাই পারভেজ আনসারির লখনউয়ের বাড়িতেও অভিযান চালায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও এন্টি টেরর স্কোয়াড (ATS)। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে ৬টি মোবাইল ফোন, তিনটি ছুরি, একটি আন্তর্জাতিক কলিং কার্ড এবং একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস। আনসারি, যিনি লখনউয়ের ইন্টিগ্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পালানোর চেষ্টা করলেও তাকে আটক করা হয়েছে।

নারী-নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাস নেটওয়ার্কে নতুন দিক

ভারতে নারী-নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী সংগঠনের উত্থান গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।