Saturday, December 13, 2025
Latestদেশ

দিল্লি বিস্ফোরণে ঘাতক গাড়িতে ছিলেন উমর মহম্মদ, DNA পরীক্ষায় মা-ভাইয়ের সঙ্গে ১০০ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দিল্লির লালকেল্লার কাছে গত সোমবার ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণ রহস্যে নতুন মোড়। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে, বিস্ফোরণের সময় ঘাতক গাড়িতে ছিলেন কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা ডঃ উমর উন নবি (Dr. Umar Un Nabi), ওরফে উমর মহম্মদ। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় উমরের দেহ।

ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত পরিচয়

উমরের মা ও ভাইয়ের ডিএনএ-র নমুনা সংগ্রহ করে তা দিল্লিতে পাঠানো হয় পরীক্ষার জন্য। নমুনা মিলিয়ে দেখা যায়, বিস্ফোরণস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া হাড়, দাঁত ও পোশাকের টুকরোর সঙ্গে উমরের পরিবারের ডিএনএ ১০০ শতাংশ মিলে গেছে। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, বিস্ফোরণের সময় আই২০ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন উমর নিজেই।

বিস্ফোরণের পর রাতেই এনআইএ উমরের মা এবং দুই ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। তদন্তে উঠে এসেছে, উমরের সঙ্গে ফরিদাবাদ, লখনউ এবং দক্ষিণ কাশ্মীরের মধ্যে সক্রিয় জইশ-ই-মহম্মদের একটি লজিস্টিক মডিউল–এর যোগসূত্র ছিল।

ডাক্তারদের নেটওয়ার্কে জইশ মডিউল

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, উমর যে নেটওয়ার্কের সদস্য ছিলেন, তার নয় থেকে দশজন সদস্যের মধ্যে পাঁচ-ছয়জনই চিকিৎসক। এই চিকিৎসকরা নিজেদের পেশাগত পরিচয় আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে বিস্ফোরক তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, উমর ৯ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ফরিদাবাদে প্রায় ২,৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধারের পর থেকেই তিনি ধৌজ গ্রামের কাছে আত্মগোপন করেন। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তিনি নিজের পাঁচটি মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়েও যাওয়া বন্ধ করে দেন।

গাড়ি বিক্রি ও সিসিটিভি সূত্রে মিল

ঘাতক আই২০ গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন ছিল মহম্মদ সলমন নামে এক ব্যক্তির নামে। তাকে আটক করলে তিনি তদন্তকারীদের জানান, গাড়িটি তিনি কিছুদিন আগেই উমরকে বিক্রি করেছিলেন। বিস্ফোরণের দিন সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, গাড়ির চালকের আসনে বসে আছেন উমর উন নবি।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, উমরের দ্বিতীয় গাড়ি — একটি লাল রঙের ফোর্ড ইকোস্পোর্ট — হরিয়ানার একটি গ্রামে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের কোনো খোঁজ মেলেনি।

বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার

এনআইএ ও দিল্লি পুলিশের যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক এবং বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, এই বিস্ফোরণ ভারতের রাজধানীতে বড়সড় নাশকতার ছক ছিল, যা শেষ মুহূর্তে ফাঁস হয়ে যায়।

তদন্তকারীরা এখন উমরের সহযোগীদের খুঁজে বের করতে তল্লাশি চালাচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, এই নেটওয়ার্কের কয়েকজন সদস্য এখনও দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশে লুকিয়ে রয়েছে।