Monday, December 15, 2025
Latestদেশ

‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’ ৩২টি গাড়ির নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল, ৪টির খোঁজ মিলেছে

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই উন্মোচিত হচ্ছে সন্ত্রাসের জটিল নেটওয়ার্ক। এবার সামনে এসেছে আরও এক বিস্ময়কর তথ্য—জঙ্গি মডিউলটি নাকি অন্তত ৩২টি গাড়ির নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল। সূত্রের দাবি, জঙ্গি কার্যকলাপকে আড়াল করার জন্যই এই সুবিশাল গাড়ি-চক্র গড়ে তোলা হয়েছিল, যাতে প্রতিটি অপারেশনে আলাদা গাড়ি ব্যবহার করা যায় এবং পুলিশের নজর এড়ানো সম্ভব হয়।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই গাড়িগুলির মধ্যে ছিল মারুতি ব্রেজা, সুইফট ডিজায়ার, ফোর্ড ইকোস্পোর্ট এবং হুন্ডাই আই ২০–এর মতো জনপ্রিয় মডেল। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, আর এই ৩২টির মধ্যেই ছিল সেই হুন্ডাই আই ২০, যেটি ব্যবহার করা হয়েছিল ভয়াবহ বিস্ফোরণে।

চিহ্নিত চারটি গাড়ি

১. মারুতি ব্রেজা: এই গাড়িটি উদ্ধার হয়েছে হরিয়ানার ফরিদাবাদে আব-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজের ক্যাম্পাস থেকে। সূত্র বলছে, এই কলেজের সঙ্গেই যুক্ত চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত জঙ্গি মডিউলটির মূল ঘাঁটি ছিল ফরিদাবাদেই।

২. ফোর্ড ইকোস্পোর্ট: দিল্লি রেজিস্ট্রেশন নম্বরের এই গাড়িটি ফরিদাবাদেই উদ্ধার করা হয়েছে বুধবার রাতে। পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়ির পিছনের আসনে ঘুমন্ত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পাওয়া যায়, যাকে পরে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

৩. সুইফট ডিজায়ার: সোমবার বাজেয়াপ্ত করা হয় এই গাড়িটি। তল্লাশি চালিয়ে এতে অ্যাসল্ট রাইফেল ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরণ পরিকল্পনায় সরাসরি যুক্ত ছিল এই গাড়িটিও।

৪. হুন্ডাই আই ২০: এই গাড়িটিই ব্যবহার করা হয়েছিল দিল্লি লালকেল্লা বিস্ফোরণে। চালকের আসনে ছিলেন জঙ্গি ডঃ উমর মহম্মদ ওরফে উমর উন নবি। প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত, গাড়িটিতে হাই-গ্রেড এক্সপ্লোসিভ ও অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল (ANFO) ব্যবহার করা হয়েছিল।

পুরোনো গাড়ির জটিল লেনদেন

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চিহ্নিত গাড়িগুলির অধিকাংশই পুরোনো এবং একাধিকবার মালিকানা বদল হয়েছে। এই কারণেই প্রকৃত মালিকদের খুঁজে পেতে সময় লাগছে। অনেক ক্ষেত্রেই নথিপত্র অসম্পূর্ণ বা জাল, ফলে গাড়িগুলির উৎস সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

বাকি ২৮টি গাড়ির খোঁজে তদন্ত

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—বাকি গাড়িগুলি কোথায়? কারা ব্যবহার করছিল? কীভাবে এত বড় সংখ্যক গাড়ি জোগাড় করা সম্ভব হলো?

তদন্তে নেমেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) ও সন্ত্রাসদমন শাখা (এটিএস)। প্রাথমিকভাবে অনুমান, এই চক্রটি দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে বিস্তৃত ছিল। গাড়িগুলি পাচার ও ভুয়ো কাগজপত্র তৈরিতে একটি অর্থনৈতিক মাফিয়া চক্রের যোগও পাওয়া যাচ্ছে।

তদন্তকারী এক আধিকারিকের কথায়, “এটি শুধু বিস্ফোরণ নয়, বরং একটি সুবিন্যস্ত সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত। প্রতিটি গাড়িই একেকটি প্রমাণ, যা আমাদের জঙ্গিদের কার্যপদ্ধতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।”

দিল্লি বিস্ফোরণ মামলার রহস্য যত গভীর হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—এটি কেবল একটি হামলা নয়, বরং এক দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সন্ত্রাস ও অর্থপাচারের জটিল জাল।