Tuesday, March 3, 2026
Latestদেশ

দিল্লি বিস্ফোরণ কান্ডে আরও এক চিকিৎসক গ্রেফতার

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক— রাজধানীর লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের বাইরে ভয়াবহ বিস্ফোরণকাণ্ডে (Delhi Blast) চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার পুলওয়ামা থেকে আরও এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শ্রীনগর থেকে ধরা পড়েছেন ডাঃ সাজাদ আহমেদ মোল্লা, যিনি পুলওয়ামার বান্দজু এলাকার বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, তিনি এমবিবিএস এবং এমডি ডিগ্রিধারী। বর্তমানে তাকে দিল্লি পুলিশের সন্ত্রাস দমন শাখা জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

তদন্ত সূত্রে খবর, সাজাদের সঙ্গে আগে গ্রেফতার হওয়া ডাঃ উমর আদিলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। দু’জনের মধ্যে যোগাযোগ চলত টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে, যেখানে ‘র‍্যাডিক্যালাইজ ডক্টর’ নামে একটি গোপন গ্রুপ তৈরি করা হয়েছিল। সেখানেই সাংকেতিক ভাষায় যোগাযোগ হতো— কোথায় দেখা হবে, কীভাবে তথ্য বা জিনিসের আদানপ্রদান হবে, সেই সব বিষয় নিয়েই চলত বার্তা বিনিময়।

৪ চিকিৎসকের নাম জড়াল সন্ত্রাস মডিউলে

দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্তে এখন পর্যন্ত মোট চারজন চিকিৎসকের নাম সামনে এসেছে— তিনজন কাশ্মীরের এবং একজন লখনউয়ের। এদের সবাইকে ফরিদাবাদভিত্তিক একটি সন্ত্রাসী মডিউলের অংশ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

মূল সন্দেহভাজনদের তালিকা:

ডঃ উমর উল নবী দার: পুলওয়ামার বাসিন্দা, ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি তার নামে কেনা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি।

ডঃ আদিল: অনন্তনাগের বাসিন্দা, সম্প্রতি বিবাহিত। তাঁর সঙ্গে জিএমসি অনন্তনাগে উদ্ধার হওয়া একে-৪৭ রাইফেলের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে।

ডঃ মুজাম্মিল শাকিল: পুলওয়ামারই আর এক চিকিৎসক, যিনি ফরিদাবাদে কর্মরত ছিলেন। লখনউয়ের ডাক্তার শাহীনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ফাঁস হওয়ার পরই সন্দেহের তালিকায় নাম ওঠে।

ডঃ শাহীন: লখনউয়ের এক মহিলা চিকিৎসক। গোয়েন্দাদের মতে, তিনিই ছিলেন গোটা মডিউলের ‘রিক্রুটার’ ও কো-অর্ডিনেটর’।

জইশের মহিলা শাখায় ডঃ শাহিনের ভূমিকায় নজর গোয়েন্দাদের

সূত্রের খবর, ডঃ শাহীনকে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের (JeM) মহিলা শাখা ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর ভারতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই শাখার নেতৃত্বে রয়েছেন জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার, যার স্বামী ইউসুফ আজহার ১৯৯৯ সালের কান্দাহার বিমান ছিনতাইয়ের অন্যতম মূল অভিযুক্ত ছিলেন।

আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের নজরে

ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় এখন পুলিশের কড়া নজরদারিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্তকারী দল। অভিযোগ, কাশ্মীর থেকে একাধিক সন্দেহভাজনকে নিয়োগ করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি। সন্ত্রাসী মডিউলের সঙ্গে সংযোগের অভিযোগে তিনজন কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের বাইরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হন। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে এক হাজারেরও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সংগঠিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের ফল।

তদন্তের পরবর্তী দিকনির্দেশ

পুলিশ এখন জোর দিচ্ছে এই চিকিৎসকচক্রের আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং বিদেশি সংযোগ খতিয়ে দেখায়। বিশেষ করে পাকিস্তান-ভিত্তিক সংগঠনের সঙ্গে এদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা জানতেই চলছে তল্লাশি।

দিল্লি পুলিশের এক সিনিয়র আধিকারিকের বক্তব্য:

“এই নেটওয়ার্ক অত্যন্ত সংগঠিত। একদিকে তারা চিকিৎসক সমাজের আড়ালে কাজ করছিল, অন্যদিকে অনলাইন মাধ্যমে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপের পরিকল্পনা চালাচ্ছিল। সব দিক থেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”