‘দোষীরা রেহাই পাবে না, যেভাবেই হোক খুঁজে বের করা হবে’, দিল্লি বিস্ফোরণ কান্ডে দফায় দফায় বৈঠক অমিত শাহের
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক— রাজধানীর বুকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। গোটা দেশজুড়ে তোলপাড়। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের, আহত অনেকে লড়ছেন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে— দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকায় এত বড় বিস্ফোরণ কীভাবে ঘটল? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নাকের ডগায় এই ঘটনা ঘটায়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপরই এখন দায় চাপাচ্ছেন বিরোধীরা। সরাসরি তাঁর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন বিরোধী নেতারা।
তদন্তভার এনআইএ-র হাতে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে ইতিমধ্যেই দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র হাতে। মঙ্গলবার সকালে নিজের বাসভবনে অমিত শাহ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রসচিব, আইবি ডিরেক্টর, এনআইএ-র ডিজি, দিল্লির পুলিশ কমিশনার ও জম্মু-কাশ্মীরের এক শীর্ষ পুলিশকর্তার (ভার্চুয়ালি যুক্ত) সঙ্গে। সেখানেই তদন্তভার হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে উঠে আসে— বিস্ফোরণের সূত্র একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার হাতে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুপুরের পর আবারও বৈঠক করেন শাহ। তাতে উপস্থিত ছিলেন আগের বৈঠকের সব আধিকারিক। সেখানে তাঁরা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সর্বশেষ রিপোর্ট পেশ করেন।
অমিত শাহের বার্তা: দোষীরা রেহাই পাবে না
বৈঠকের পর এক্স হ্যান্ডেলে শাহ লেখেন, “দিল্লির গাড়িবোমা বিস্ফোরণ নিয়ে রিভিউ মিটিংয়ের সভাপতিত্ব করলাম। দোষীদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছি। তারা এ বার আমাদের তদন্তকারী সংস্থাগুলির ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ দেখবে।”
তাঁর এই বক্তব্যে জঙ্গি-যোগের ইঙ্গিত স্পষ্ট বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
জইশ-ই-মহম্মদের যোগের সন্দেহ
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, হামলার নেপথ্যে থাকতে পারে জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর ভারতীয় শাখা। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন দায় স্বীকার করেনি।
তদন্তে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণের আগে সুনহেরি মসজিদের পার্কিং লটে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ঘাতক গাড়িটি দাঁড়িয়ে ছিল। সেই গাড়িটিকেই কেন্দ্র করে এখন তদন্ত এগোচ্ছে।
গাড়ির সূত্রে জটিল লেনদেন
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ গাড়িটি প্রথম বিক্রি হয় জনৈক সলমন-এর কাছে। পরে সেটি কোনও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়াই দেবেন্দ্র, তারপর সোনু, এবং শেষে তারিক নামের ব্যক্তির কাছে যায়। অথচ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
এই মালিকানা বদলের শৃঙ্খলে উঠে এসেছে ফরিদাবাদের গাড়ি বিক্রেতা নাদিম খানের নামও। ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে জেরা করেই তদন্তকারীরা জানতে পারেন তারিকের নাম, যার সঙ্গে বর্তমানে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে তদন্তকারীদের।
নিরাপত্তা প্রশ্নে সরকার চাপে
এই বিস্ফোরণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ব্যর্থতা বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের এক মুখপাত্র বলেন, “যে এলাকায় এক কিলোমিটারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও রেড ফোর্ট রয়েছে, সেখানে বিস্ফোরণ ঘটলে তা শুধু অপরাধ নয়, গোটা নিরাপত্তা কাঠামোর ব্যর্থতা।”
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দাবি, তদন্ত দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই মূলচক্রীদের গ্রেপ্তার করা হবে।


