পরিকল্পনা ছিল একাধিক হামলার, গ্রেফতার ভারতে জইশের মহিলা শাখার প্রধান চিকিৎসক শাহিন শাহিদ
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার আগেই গ্রেফতার এক মহিলা চিকিৎসক। লখনউয়ের বাসিন্দা ওই চিকিৎসক শাহিন শাহিদ জইশ-ই-মহম্মদের ভারতীয় শাখার অন্যতম মুখ এবং মহিলা শাখা ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর ভারতীয় প্রধান বলে খবর।
সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লার কাছে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি হুন্ডাই গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে, ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ গুরুতর জখম।
এর আগেই দিল্লির লাগোয়া ফরিদাবাদ থেকে ২৯০০ কেজিরও বেশি বিস্ফোরক উদ্ধার করে পুলিশ। সেই অভিযানেই গ্রেপ্তার হয় শাহিন শাহিদ। তার গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় অ্যাসল্ট রাইফেলও। সূত্রের দাবি, শাহিন শাহিদ লখনউয়ের একজন প্র্যাকটিসিং চিকিৎসক হলেও, দীর্ঘদিন ধরেই জইশ-ই-মহম্মদের যোগাযোগে ছিলেন।
গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যাচ্ছে, কাশ্মীরের চিকিৎসক মুজাম্মিল গানাই ওরফে ‘মুসাইব’-এর ঘনিষ্ঠ ছিলেন শাহিন। এই মুজাম্মিলের ডেরা থেকেই মিলেছে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। অনুমান করা হচ্ছে, ‘ফরিদাবাদ মডিউল’-এর সঙ্গে শাহিন শাহিদের সরাসরি যোগ ছিল এবং সেই মডিউলই দিল্লির বিস্ফোরণের নেপথ্যে।
এক মাস আগেই জইশ প্রধান মাসুদ আজহার ‘জামাত-উল-মোমিনাত’ নামে মহিলা ব্রিগেড গঠনের ঘোষণা করেছিলেন। পাকিস্তান থেকে এই সংগঠন চালানোর দায়িত্ব রয়েছে আজহারের বোন সাদিয়া আজহারের উপর। গোয়েন্দারা মনে করছেন, ভারতে এই মহিলা শাখাকে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল শাহিন শাহিদকে।
প্রসঙ্গত, সাদিয়া আজহারের স্বামী ইউসুফ আজহার কান্দাহার হাইজ্যাকের অন্যতম চক্রী ছিলেন, যিনি গত ৭ মে সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ নিহত হন।
ইতিমধ্যেই ফরিদাবাদের আল ফালাহ হাসপাতালে কর্মরত আরও দুই চিকিৎসককে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের মতে, এই নেটওয়ার্কটি দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় ছিল এবং দিল্লির বিস্ফোরণ সেই ছকেরই অংশ।
এখন গোয়েন্দাদের মূল লক্ষ্য— শাহিন শাহিদের জেরার মাধ্যমে ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর ভারতীয় কাঠামো ও অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করা। রাজধানীতে বিস্ফোরণের পর গোটা উত্তর ভারতে উচ্চ সতর্কতা জারি হয়েছে।
এই বিস্ফোরণ আলাদা কোনও ঘটনা নয়, বরং একটি সংগঠিত মডিউলের কার্যকলাপের ফল। শাহিন শাহিদ সেই চক্রের অন্যতম মুখ।


