‘আমাকে অপহরণ করতে গুন্ডা পাঠানো হয়েছিল, আমি ভারতীয়’, মুক্তি পেয়ে দাবি ধ্রুব রাঠির
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: আটক অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি একটি ভিডিও বার্তায় দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন, তাকে কেবল আটক করা হয়নি, কার্যত ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, “আমি যখন ঘুমোচ্ছিলাম, তখন আক্ষরিক অর্থেই আমার নিজের বাড়ি থেকে আমাকে অপহরণ করার জন্য গুন্ডা পাঠানো হয়েছিল।”
শনিবার সকালে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে ধ্রুব রাঠিকে হেফাজতে নেয় দিল্লি পুলিশ। দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রস্তাবিত ‘যন্তর মন্তর ২.০’ বিক্ষোভে তার যোগ দেওয়ার কথা ছিল। আটক থাকার সময় সমর্থকদের ভালোবাসা ও পাশে থাকার বার্তার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।
ভিডিওতে তিনি নিজের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর করতে ক্যামেরার সামনে ভারতীয় পাসপোর্ট তুলে ধরেন। জাতীয়তা নিয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের একাংশকে নিশানা করে তিনি বলেন, “এই দেখুন আমার পাসপোর্ট। আমি একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলাম, আছি এবং থাকব।” তিনি স্পষ্ট জানান, সাধারণ ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দেশে যে কোনও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার তার রয়েছে।
আটকের ঘটনার বিবরণ দিয়ে রাঠি দাবি করেন, শনিবার সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ সাধারণ পোশাকে প্রায় ২০ জন তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়ে। পরিচয় জানার আগেই তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর প্রায় ২২–২৩ ঘণ্টা তাকে আইনজীবী বা পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি এবং বিভিন্ন থানায় ঘোরানো হয়। শোওয়ার ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি আঘাত পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন। অবশেষে শনিবার ও রবিবারের মধ্যবর্তী রাত প্রায় ৩টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধ্রুব রাঠি ফের যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আবার আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল।

