Tuesday, August 4, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর স্বাধীন হচ্ছে বালোচিস্তান? ১১ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা করলো বালুচ বিদ্রোহীরা

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল বালুচিস্তানের বিদ্রোহীরা। স্বঘোষিত ‘রিপাবলিক অফ বালুচিস্তান’ ঘোষণা করেছে, আগামী ১১ আগস্ট তারা ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে পালন করবে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বালোচ জনগণের প্রতি ওই দিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম বালুচিস্তান’-কে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, পাকিস্তানের বর্তমান রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে থেকে বালুচিস্তানে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়াই তাদের লক্ষ্য।

বালোচ মুক্তি আন্দোলনের নেতা Mir Yar Baloch জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ১১ আগস্ট বাড়িঘর, দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য জনসমাগমস্থলে স্বাধীন বালুচিস্তানের পতাকা উত্তোলন করা হোক। তাঁর বক্তব্য, এই উদযাপনের মাধ্যমে স্বাধীনতার দাবির ঐতিহাসিক তাৎপর্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হবে।

সংগঠনটির দাবি, ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট, ব্রিটিশ শাসনের অবসানের প্রাক্কালে বালুচিস্তান প্রথমবারের মতো স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিল। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সে সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং অল ইন্ডিয়া রেডিওতেও এই ঘটনার খবর প্রকাশ ও প্রচারিত হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক দাবির ভিত্তিতেই ১১ আগস্টকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, বালুচিস্তানের প্রায় ৬ কোটি বালোচ জনগণ নিজেদের একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে বিবেচনা করে। যদিও এই জনসংখ্যার দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, পাকিস্তান সরকার এখনও পর্যন্ত এই ঘোষণার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এই ঘোষণার পর নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে, ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশ গঠনের পর আবারও কি পাকিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে?

১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। সেই যুদ্ধে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, বালুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলিকে ভারত সমর্থন দিচ্ছে। তবে ভারত বারবার সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতেও নয়াদিল্লি বালুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি। সরকারি সূত্রের ইঙ্গিত, ভারত পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

উল্লেখ্য, বালুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবি এবং ‘রিপাবলিক অফ বালুচিস্তান’-এর ঘোষণাকে পাকিস্তান বা জাতিসংঘের কোনো সদস্য রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে এই ঘোষণা বর্তমানে বিদ্রোহী নেতৃত্বের রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।