ভারতের FCRA বিল নিয়ে সমালোচনা, মোদী সরকারকে কড়া বার্তা আমেরিকার কংগ্রেস সদস্যের
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: শুল্ক ইস্যুতে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সাম্প্রতিক মতপার্থক্যের আবহেই এবার নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন বা FCRA। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার সংসদে FCRA (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পেশ করার পর তা নিয়ে দেশ-বিদেশে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আবহে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য রাইলি মুর প্রকাশ্যে বিলটির সমালোচনা করে দাবি করেছেন, প্রস্তাবিত সংশোধন খ্রিস্টান গির্জা ও ধর্মীয় দাতব্য সংস্থাগুলির উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারে। এমনকি তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই বিল বর্তমান আকারে পাস হলে ভারত-আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে।
লোকসভার চলতি বাদল অধিবেশনে ২০১০ সালের FCRA আইনে সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে জোর বিতর্ক চলছে। রাইলি মুর সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানের কয়েক দশক পরই সন্ত টমাস ভারতের মালাবার উপকূলে পৌঁছেছিলেন এবং সেই থেকেই ভারতে খ্রিস্টধর্মের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, নতুন সংশোধনী বিলের মাধ্যমে সরকার গির্জা ও ধর্মীয় দাতব্য সংস্থাগুলির উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপর সরাসরি আঘাতের সামিল।
তিনি আরও বলেন, যদি এই বিল একইভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে ভারত-আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে ভাবতে হতে পারে।
বর্তমানে FCRA আইন অনুযায়ী, কোনও বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় বা দাতব্য সংস্থাকে বিদেশি অনুদান গ্রহণের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে নিবন্ধন করতে হয়। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সেই নিবন্ধনের নবীকরণও বাধ্যতামূলক। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৪,৪৪৯টি সংস্থার সক্রিয় FCRA নিবন্ধন রয়েছে। ইতিমধ্যে ২২,৪৯৮টি সংস্থার নিবন্ধন বাতিল হয়েছে এবং ১৫,২১২টি সংস্থার নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে FCRA-নিবন্ধিত সংস্থাগুলি বিদেশ থেকে মোট ৫৫,৭৪১ কোটি টাকার অনুদান পেয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলে বলা হয়েছে, সরকার মনোনীত একটি বিশেষ কর্তৃপক্ষ কোনও সংস্থার নিবন্ধন প্রদান, নবীকরণ বা বাতিল করার ক্ষমতা পাবে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিদেশি অনুদান এবং সেই অর্থে গড়ে ওঠা সম্পদের ব্যবস্থাপনাও ওই কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত হতে পারে।
এছাড়া, টানা দুই অর্থবর্ষে বিদেশি অনুদান ও ব্যবহারের পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকার কম হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা আর নিবন্ধন নবীকরণের যোগ্য থাকবে না বলে প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্য সংস্থার কাছে বিদেশি অনুদান স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ, বিদেশি অর্থ গ্রহণ ও ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং প্রকল্প, কার্যক্রম, ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে।
এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলি ঘিরে বিরোধীদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও ধর্মীয় সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সমালোচকদের দাবি, সংশোধনী কার্যকর হলে সরকার বিভিন্ন সংস্থার সম্পদ ও কার্যক্রমের উপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। বিশেষ করে কেরলের মতো রাজ্যে, যেখানে বহু খ্রিস্টান সংগঠন বিদেশি অনুদানের উপর নির্ভরশীল, সেখানে এই বিল নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকারের দাবি, FCRA আইনে আনা সংশোধনের মূল লক্ষ্য বিদেশি অনুদানের ব্যবহারে আরও বেশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা। সরকারের মতে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে বিদেশি অর্থের অপব্যবহার রোধ করা এবং অনুদান ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করা সম্ভব হবে।
বিলটি এখনও সংসদে আলোচনাধীন।

