Friday, July 17, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

বঙ্গোপসাগরে ভয়াবহ নৌকাডুবি: নিখোঁজ ও মৃত্যুর আশঙ্কায় ৫০০-এরও বেশি রোহিঙ্গা

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশি আবারও সাক্ষী হল মানবিক বিপর্যয়ের। মায়ানমারের উপকূল থেকে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া বা অন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে রোহিঙ্গা শরণার্থীবোঝাই দুটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৫০০-এরও বেশি মানুষের সলিলসমাধি ঘটেছে বলে তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ সামুদ্রিক বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছে।

যেভাবে ঘটল এই ভয়াবহ বিপর্যয়

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR)-এর যৌথ বিবৃতি থেকে জানা যায়, নৌকা দুটি মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।

যাত্রী সংখ্যা: প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি নৌকায় প্রায় ২৫০ জন এবং অন্যটিতে প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ছিলেন।

দুর্ঘটনার বিবরণ: সমুদ্রযাত্রার শুরুর পরপরই একটি নৌকা সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় নৌকাটি গত ৮ জুলাই মায়ানমারের আয়েয়ারওয়াডি উপকূলের কাছে উত্তাল সাগরে উলটে যায়।

প্রতিকূল আবহাওয়া: বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে বর্ষাকাল চলায় সমুদ্র প্রচণ্ড উত্তাল রয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাত এবং বন্যার কারণে এই নৌযাত্রাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে আগেই সতর্ক করেছিল আবহাওয়া অফিস। কিন্তু সেই সতর্কতা উপেক্ষা করে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে মরিয়া হয়ে সাগরে ভাসাই শেষ পর্যন্ত এই মানুষগুলোর জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠল।

ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রার নেপথ্যে

২০১৭ সালে মায়ানমার সামরিক বাহিনীর নির্মম অভিযানের পর প্রায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। আর যারা মায়ানমারে অবশিষ্ট রয়ে গেছেন, তারা সেখানে চরম মানবিক সংকট ও কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০১৫ সাল থেকে এই সমুদ্রপথটি শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক রুটে পরিণত হয়েছে। মায়ানমারে অবরুদ্ধ দশা আর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে একটু নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মরিয়া এই মানুষগুলো প্রায়শই মানবপাচারকারী বা দালালদের খপ্পরে পড়েন।

“গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও প্রায় সাড়ে ছয় হাজার রোহিঙ্গা এই বিপজ্জনক পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ৯০০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন—যা ছিল এযাবৎকালের রেকর্ড মৃত্যু। কিন্তু ২০২৬-এর এই একটি ঘটনায় পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

আন্তর্জাতিক মহলে শোক ও উদ্ধার তৎপরতার আহ্বান

এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে বিশ্বজুড়ে তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ নিখোঁজদের সন্ধানে এবং সাগরে ভাসমান অন্য কোনো নৌকা থাকলে তাদের উদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে, রোহিঙ্গাদের এই মরিয়া ও বিপজ্জনক যাত্রা বন্ধ করতে মায়ানমারের ভেতরে সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

Al Jazeera