Saturday, May 16, 2026
Latestরাজ্য​

অভিষেকের বিরুদ্ধে বিএনএস ১৯২, ১৯৬, ৩৫১/২, ৩৫৩(১)(c) ধারায় মামলা দায়ের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করল রাজ্য পুলিশ। বিধাননগর নর্থ সাইবার ক্রাইম থানায় দায়ের হওয়া এই মামলাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অভিযোগ দায়ের করেছেন সমাজকর্মী রাজীব সরকার। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, রাজ্য পুলিশের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এটি সম্ভবত প্রথম FIR।

পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরদিন, অর্থাৎ ৫ মে বাগুইআটি থানায় প্রথম লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের সময় একাধিক সভা ও জনসমাবেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এমন কিছু বক্তব্য রেখেছিলেন, যা উস্কানিমূলক এবং সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করেও কড়া ভাষায় মন্তব্য করা হয়েছিল। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ ও সোশ্যাল মিডিয়া লিঙ্ক পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

কোন কোন ধারায় মামলা?

অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ধারা অজামিনযোগ্য বলেও জানা গিয়েছে।

পুলিশ যে ধারাগুলি যুক্ত করেছে সেগুলি হল—

বিএনএস ১৯২ ধারা — দাঙ্গা বা অশান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উস্কানির অভিযোগ। এই ধারা জামিনযোগ্য।

বিএনএস ১৯৬ ধারা — বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়ানো কিংবা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগে প্রয়োগ করা হয়েছে। এটি জামিন অযোগ্য ধারা।

বিএনএস ৩৫১(২) ধারা — হুমকি, ভয় প্রদর্শন এবং সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত করার অভিযোগে এই জামিন অযোগ্য ধারা যুক্ত হয়েছে।

বিএনএস ৩৫৩(১)(c) ধারা — মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং গুজব ছড়ানোর অভিযোগে প্রয়োগ করা হয়েছে। এই ধারা জামিনযোগ্য।

শুধু ভারতীয় ন্যায় সংহিতাই নয়, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের (Representation of the People Act) ১২৩(২) এবং ১২৫ ধারাও মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া কিছু বক্তব্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন এবং চাপের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা

এই FIR-কে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ভোট-পরবর্তী বাংলার পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই মামলাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।