হরমুজ পেরোল LPG বোঝাই আরও ২ টি ভারতীয় জাহাজ, মাঝ সমুদ্রে উঠলো ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ইরান বনাম ইসরায়েল-আমেরিকার সংঘাত ঘিরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ইরানের তরফে একাধিক নিষেধাজ্ঞা, জাহাজে হামলা এবং সমুদ্রতলে মাইন পেতে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ফলে বহু দেশের তেলবাহী জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছে।
তবে এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ব্যতিক্রম ভারত। ইরান ভারতকে ‘বন্ধুপ্রতিম দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। এর জেরে রবিবার আরও দুটি ভারতীয় এলপিজি বোঝাই ট্যাঙ্কার নিরাপদে প্রণালী অতিক্রম করেছে।
Two LPG carriers, BW Tyr and BW Elm, carrying a combined LPG cargo of about 94,000 MT, have safely transited the region and are moving towards India shores. BW Tyr is proceeding towards Mumbai with an expected time of arrival on 31 March 2026 & BW Elm is en route to New Mangalore… pic.twitter.com/XCLv28H5XE
— ANI (@ANI) March 29, 2026
জানা গিয়েছে, BW Tiare এবং BW Elm নামের এই দুই ট্যাঙ্কারে মোট প্রায় ৯৪ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ভারতে আসছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, একটি জাহাজ ৩১ মার্চ মুম্বাই বন্দরে এবং অন্যটি ১ এপ্রিল নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হরমুজ পাড়ি দেওয়ার পর ভারতীয় নাবিকদের মধ্যে উৎসাহের ছবি সামনে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, নাবিকরা “ভারত মাতা কি জয়” এবং “বন্দে মাতরম” স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁদের হাতে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকাও। এই ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে হরমুজ অতিক্রম করার পর ভারতীয় ট্যাঙ্কারগুলিকে নৌবাহিনীর রণতরী দিয়ে এসকর্ট করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের মোট ১৮টি জাহাজ নিরাপদে পারাপার করেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছে, দেশের বন্দরগুলিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং ভারতীয় কোনও জাহাজের যাত্রা বিঘ্নিত হওয়ার খবর নেই।
উল্লেখ্য, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে, সেখানে ভারতের জন্য এই বিশেষ অনুমতি কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে, যা এই বৈশ্বিক সংকটের মাঝে ভারতের জন্য বড় স্বস্তির খবর।


