CPIM পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে গরিব পরিবার পিছু ৭,৫০০ টাকা, অস্থায়ী কর্মীদের চাকরি স্থায়ী করা হবে: সুজন চক্রবর্তী
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে বামফ্রন্টের জনসভা থেকে একাধিক বড় প্রতিশ্রুতি দিলেন বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী। শনিবার সিপিআই প্রার্থী সৈকত গিরির সমর্থনে আয়োজিত সভায় উপস্থিত হয়ে তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান এবং বিকল্প হিসেবে বামফ্রন্টের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
সভা থেকে সুজন চক্রবর্তী দাবি করেন, বামফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে রাজ্যের গরিব পরিবারগুলিকে পিছু ৭,৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, ‘বর্তমান সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প মানুষের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য নয়, বরং ভোটকে সামনে রেখেই পরিচালিত হচ্ছে।’
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বর্তমানে ১,৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। তবে এই বৃদ্ধির পেছনে কোনও স্থায়ী উন্নয়নের ভাবনা নেই, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে ভোটমুখী পদক্ষেপ।’
অস্থায়ী কর্মীদের প্রসঙ্গেও বড় ঘোষণা করেন বাম নেতা। তিনি বলেন, ‘সিভিক ভলেন্টিয়ার-সহ রাজ্যের সমস্ত অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণ করা হবে। পাশাপাশি তাদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ২১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হবে। তাঁর বক্তব্য, “৫-৭ হাজার টাকায় একটি সংসার চালানো সম্ভব নয়, তাই বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো প্রয়োজন।”
কর্মসংস্থান ইস্যুতেও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “বামফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে রাজ্যের যুবকদের বাইরে কাজের খোঁজে যেতে হবে না। রাজ্যের মধ্যেই পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।”
শিক্ষা ক্ষেত্র নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সুজন চক্রবর্তী। তিনি দাবি করেন, “বর্তমান ব্যবস্থায় শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বামফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার দায়িত্ব সরকার নেবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হবে।”
এছাড়াও যুব সাথী প্রকল্প নিয়েও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে এই ধরনের প্রকল্পের প্রচার বাড়ানো হয়, যা মূলত ভোটের রাজনীতির অংশ।”
সব মিলিয়ে, পটাশপুরের সভা থেকে বামফ্রন্ট নিজেদের জনমুখী প্রতিশ্রুতির রূপরেখা তুলে ধরার পাশাপাশি বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব অবস্থান স্পষ্ট করেছে।


