ভোট সংক্রান্ত কোনও কাজেই সিভিক ভলান্টিয়ারদের ব্যবহার করা যাবে না, সাফ জানালো নির্বাচন কমিশন
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে কমিশন। তার মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত, ভোটের ডিউটিতে কোনওভাবেই সিভিক ভলান্টিয়ারদের ব্যবহার করা যাবে না।
কমিশনের তরফে জারি করা লিখিত নির্দেশিকায় রাজ্যের সব জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এবং পুলিশ কমিশনারদের স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ভোট সংক্রান্ত কোনও কাজেই সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিযুক্ত করা যাবে না। এমনকি কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে সিভিক ভলান্টিয়াররা কাজ করছেন—এমন অভিযোগ সামনে এলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পরেই তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন। কলকাতা পুলিশের ডিসি (হোমগার্ড) ইতিমধ্যেই শহরের সব ডিভিশনের ডিসি ও ইউনিট প্রধানদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচনী কাজে সিভিকদের সম্পূর্ণভাবে বাদ দিতে হবে। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোট প্রস্তুতি নিয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কমিশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনা হয়। তার পরেই ১৩ দফা নির্দেশিকা জারি করা হয়।
এছাড়াও, কমিশন নির্দেশ দিয়েছে—প্রতিটি জেলায় থানার ওসি ও রিটার্নিং অফিসারদের একটি রিজার্ভ তালিকা তৈরি রাখতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত বদলি নিশ্চিত করতে এই তালিকা কাজে লাগবে। পাশাপাশি, অবসরপ্রাপ্ত কোনও পুলিশ বা সিভিল অফিসার যদি এখনও নির্বাচনী কাজে যুক্ত থাকেন, তবে তাঁদের অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শুধু সিভিক ভলান্টিয়ার নয়, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে জানানো হয়েছে, কোনওভাবেই চুক্তিভিত্তিক কর্মী বা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভোটের কাজে নিয়োগ করা যাবে না। পোলিং পার্সোনেল হিসেবে শুধুমাত্র স্থায়ী সরকারি কর্মী বা কেন্দ্রীয় সংস্থার কর্মীদেরই ব্যবহার করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে কোনও রকম নিয়মভঙ্গ হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শো-কজ নোটিশ থেকে শুরু করে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, যাদের ভোটের কাজে নিয়োগ করা হচ্ছে তাঁরা যে স্থায়ী সরকারি কর্মী—তা নিশ্চিত করে আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে মুচলেকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের।
আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করাই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য।


