Kazi Abdur Rahim: মেলেনি টিকিট, ভোটের মুখে তৃণমূল ছাড়লেন বাদুড়িয়ার বিদায়ী বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভোটের একেবারে মুখে বড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। বাদুড়িয়া বিধানসভার বিদায়ী বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী না করায় আগে থেকেই ক্ষোভ ছিল বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এবার প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে সরব হয়ে পদত্যাগ করলেন তিনি।
নিজের ফেসবুক পোস্টে রহিম জানিয়েছেন, দলের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তাঁর আদর্শের বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছে। তিনি লেখেন, “আজ এক কঠিন কিন্তু নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
বাদুড়িয়ার জনক, আমার পিতা মরহুম কাজী আব্দুর গফফার সাহেবের আদর্শ ও শিক্ষা নিয়েই আমার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। মানুষের পাশে থাকা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই—এই মূল্যবোধই তিনি আমার মধ্যে গেঁথে দিয়েছিলেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আপনাদের ভালোবাসা, দোয়া, আশীর্বাদ ও সমর্থনই ছিল আমার একমাত্র শক্তি। সেই শক্তিকে সঙ্গী করেই আমি সবসময় সত্য, ন্যায় এবং আদর্শের পথে চলার চেষ্টা করেছি।
কিন্তু দুঃখের সঙ্গে জানাতে বাধ্য হচ্ছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে যে গভীর ফারাক তৈরি হয়েছে, তা আর উপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বারবার অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় আমি মানসিকভাবে অত্যন্ত ব্যথিত।
আমি কখনও আপসের রাজনীতি করিনি, আর ভবিষ্যতেও করব না। আমার পিতার আদর্শ আমাকে শিখিয়েছে—অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়, সত্যের পথেই অটল থাকা। সেই কারণেই আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সকল পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করলাম ।
আমি মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব—এটাই আমার অঙ্গীকার। বাদুড়িয়ার মাটি ও মানুষের কাছে আমি চিরঋণী। ইতিহাস সাক্ষী থাকবে, আমি সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পথেই চলেছি। আপনাদের দোয়া, আশীর্বাদ ও ভালোবাসা কামনা করি।”
এদিকে, এই ঘোষণার জেরে বসিরহাট মহকুমার রাজনৈতিক পরিবেশ ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য, আজ সন্দেশখালিতে কর্মসূচি রয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর সফরের আগেই রহিমের দলত্যাগের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে।
ভোটের প্রাক্কালে এই ঘটনা তৃণমূলের জন্য কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন থেকেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। বিশেষ করে বসিরহাট ও সংলগ্ন এলাকায় এর প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।


