Thursday, March 26, 2026
Latestরাজ্য​

অবাধ ভোটে নজিরবিহীন পদক্ষেপ, প্রতি দফায় আড়াই লাখ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন পশ্চিমবঙ্গে

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে একাধিক কড়া ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন হবে দু’দফায়, এবং প্রতিটি দফাতেই প্রায় ২৫০০ কোম্পানি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি দফায় প্রায় আড়াই লক্ষ কেন্দ্রীয় জওয়ান রাজ্যে দায়িত্ব পালন করবেন বলে কমিশন সূত্রে খবর।

নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হবে, কোন কোন এলাকা স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে ঠিক কত বাহিনী প্রয়োজন—এই সমস্ত বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বিস্তারিত বৈঠক হয়েছে। জেলা প্রশাসনের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই বাহিনী মোতায়েনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে শুধু সংখ্যার দিক থেকেই নয়, কাজের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনছে কমিশন। এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্ব শুধু ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না। বুথের বাইরে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও তারা হস্তক্ষেপ করতে পারবে। এমনকি ভোটারদের ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া বা বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। ছাপ্পা ভোট, বুথ দখল বা অশান্তির মতো ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে বলে স্পষ্ট করেছে কমিশন।

আইনশৃঙ্খলা জোরদার করতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ‘ট্রাবল মঙ্গার’ বা সম্ভাব্য গোলমালকারীদের চিহ্নিত করে তাদের এলাকাগুলিকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বাহিনী রুট মার্চ করবে। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই শহরের একটি বিস্তারিত রুট ম্যাপ কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় রুট মার্চ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকা অতীতে অশান্তির জন্য চিহ্নিত, সেগুলিকে প্রাধান্য দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকদের সঙ্গে এই নিয়ে একাধিক দফায় বৈঠকও হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই বহুমুখী প্রস্তুতি থেকে স্পষ্ট, এবারের ভোটে কোনওরকম অনিয়ম বা অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামানোর কৌশল নিয়েছে কমিশন।