Thursday, March 26, 2026
দেশ

‘বাচ্চা কাঁদলে কাঁদতে দিন, ফোন দেবেন না’, অভিভাবকদের কাছে আবেদন যোগীর

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) শিশুদের ওপর স্মার্টফোনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে এবং মাদক ও স্মার্টফোন—দুটোই সমানভাবে ক্ষতিকর।

তিনি অভিভাবকদের অনুরোধ করেন, ছোটদের হাতে স্মার্টফোন না দিতে এবং তাদের পড়াশোনা, যোগব্যায়াম ও শারীরিক ব্যায়ামের দিকে উৎসাহিত করতে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখের ক্ষতি হয়, দৈনন্দিন রুটিন বিঘ্নিত হয় এবং বিষণ্নতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তিনি বলেন, “দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে যুবসমাজের ওপর। মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। মাদক যেমন বিপজ্জনক, তেমনি স্মার্টফোনও সমান ক্ষতিকর—তাই শিশুদের দুটো থেকেই দূরে রাখা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্মার্টফোনে সময় কাটায়, তারা নিজেদের বিকাশের সুযোগ হারাচ্ছে। অনলাইন গেম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তাদের নেতিবাচকতা ও বিষণ্নতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার প্রবণতাও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, “আমি মা-বোনদের বলব, বাচ্চাদের ফোন দেবেন না। বাচ্চা যদি কাঁদে, কাঁদতে দিন। সারাদিন ফোনে থাকলে চোখের ক্ষতি হয়। যে সময় ফোনে কাটাচ্ছে, সেই সময় পড়াশোনা, যোগব্যায়াম বা ব্যায়ামে দিলে জীবনে উন্নতি হবে।”

তিনি যুবসমাজকে স্মার্টফোন ব্যবহারে সংযমী হতে, পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে এবং খাওয়া বা পূজার সময় ফোন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন।

তিনি আরও বলেন, “স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার এক ধরনের নতুন মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করছে। দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে যুবসমাজের মধ্যে বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে।”

আদিত্যনাথ বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তরুণ প্রজন্মের ওপর এবং সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যেন তাদের অবহেলা না করা হয়।

তিনি আরও বলেন, “জীবনে সাফল্য ও ব্যর্থতা দুটোই আছে। ব্যর্থতায় ভেঙে পড়া উচিত নয়। ঈশ্বরের আশীর্বাদ ও অধ্যবসায় থাকলে উন্নতি আটকানো যায় না। তরুণদের ব্যক্তিগত উন্নতির দিকে মনোযোগ দিতে হবে এবং সমাজের জন্য কাজ করতে হবে।”

তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাতে স্মার্টফোন ব্যবহার না করাই ভালো।