Al Falah University: আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করলো ইডি
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে বড়সড় মোড়। হরিয়ানার আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার চেয়ারম্যান জাভেদ আহমেদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করলো এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় ও তার অধীনস্থ মেডিক্যাল কলেজে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছিল, যার নিয়ন্ত্রণে ছিলেন খোদ চেয়ারম্যান সিদ্দিকী।
ইডির দাবি, তদন্ত চলাকালীন একাধিকবার কেন্দ্রীয় সংস্থা ও অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থাকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের (NMC) নিয়ম মানার বিষয়টি ছিল শুধুই কাগজে-কলমে। বাস্তবে ভুয়ো চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়েছিল, যাদের অনেককেই কখনও মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি।
চার্জশিটে উল্লেখ, ওই তথাকথিত চিকিৎসকেরা নিয়মিত ক্লাস নেওয়া বা চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। সূত্রের দাবি, জেরায় কয়েকজন চিকিৎসক স্বীকার করেছেন যে তাঁরা বাড়ি থেকেই ‘কাজ’ করতেন। ইডির মতে, এই অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরাসরি অনুমোদন দিয়েছিলেন চেয়ারম্যান সিদ্দিকী নিজেই।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত চিকিৎসক উমর-উন নবিকেও কোনওরকম তথ্য যাচাই ছাড়াই আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজে নিয়োগ করা হয়েছিল। পারিবারিক পরিচয়, ঠিকানা বা নিরাপত্তা যাচাই—কোনও বিষয়েই পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়নি। উমরের মতো আরও বহু ব্যক্তিকে একই পদ্ধতিতে নিয়োগ করা হয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ।
ইডির অভিযোগ, আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজে তদন্ত চলাকালীন বাইরে থেকে ভুয়ো রোগী এনে দেখানো হত। কলেজের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান ফরদিন বেগ জানিয়েছেন, আশাকর্মীদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে এই ভুয়ো রোগীদের আনা হত, যাতে হাসপাতালের কার্যক্রম স্বাভাবিক বলে প্রমাণ করা যায়।
চার্জশিট অনুযায়ী, অন্তত ৭০ জন চিকিৎসককে নিয়মবিরুদ্ধভাবে নিয়োগ করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রায় ১৩ কোটি টাকার বিদেশি লেনদেনের হদিস মিলেছে। ইডির দাবি, ওই অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং এই আর্থিক দুর্নীতির গোটা প্রক্রিয়াটি ছিল সুপরিকল্পিত।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই বড় পদক্ষেপ করেছে ইডি। শুক্রবার আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪ একর জমি এবং ফরিদাবাদের একটি মেডিক্যাল কলেজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৪০ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের সামনে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত চিকিৎসক উমর-সহ মোট ১৫ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার তদন্ত সূত্র ধরেই আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উঠে আসে এবং পরবর্তীতে এই বৃহৎ দুর্নীতির জাল সামনে আসে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার।


