বাংলাদেশে গত দেড় বছরে ৩১০০ হিন্দুদের উপর হামলা, বলছে রিপোর্ট
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ৩,১০০-এরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই তথ্য ভারতের পক্ষ থেকেও সামনে আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত দেড় বছরেরও বেশি সময়ে হামলার লক্ষ্য হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উপাসনাস্থল। বহু জায়গায় মন্দির ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং জমি দখলের মতো অভিযোগ সামনে এসেছে। শুধু সম্পত্তির ক্ষতি নয়, একাধিক ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, বেশ কিছু এলাকায় সংগঠিতভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় বহু পরিবার তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের ঘটনার সংখ্যা বেশি বলে দাবি করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেই সময়ের পর থেকেই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা বাড়তে শুরু করেছে বলে দাবি করছে বিভিন্ন মহল। যদিও এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্ন মতও জানানো হয়েছে।
এদিকে ভারত সরকারও এই ঘটনাগুলোর ওপর নজর রাখছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে খবর। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই ঘটনাগুলোর সঠিক তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও তারা মনে করেন।


