Tuesday, March 10, 2026
Latestদেশ

‘যখনই কিছু কিনবেন, দেখে নেবেন সেটায় যেন হালাল সার্টিফিকেশন না থাকে’, বার্তা যোগী আদিত্যনাথের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দীপাবলি উৎসবের মাঝেই ফের রাজনৈতিক ইসলাম এবং ‘হালাল সার্টিফিকেশন’-এর বিরুদ্ধে সরব হলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। গোরক্ষপুরে আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিচার-পরিবার কুটুম্ব স্নেহ মিলন’ এবং ‘দীপোৎসব সে রাষ্ট্ৰোৎসব’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “ভারতের সনাতন ধর্মের উপর সবচেয়ে বড় আঘাত ছিল ইসলামিক রাজনীতি। আমাদের পূর্বপুরুষরা রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, কিন্তু সেই ইতিহাসকে ইচ্ছে করেই আড়াল করা হয়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ, গুরু গোবিন্দ সিং, মহারানা প্রতাপ, মহারানা সাঙ্গা— এঁরা প্রত্যেকেই রাজনৈতিক ইসলামের বিস্তারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন। কিন্তু স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সেই অধ্যায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে।” যোগীর দাবি, “রাজনৈতিক ইসলাম আজও ভারতকে বিভক্ত করার জন্য কাজ করছে।”

এই প্রসঙ্গে তিনি বলরামপুর জেলার বহুল আলোচিত ছাঙ্গুর বাবা মামলার কথাও উল্লেখ করেন। অভিযোগ, জালালউদ্দিন ওরফে ছাঙ্গুর বাবা ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও আচার-অনুষ্ঠানের আড়ালে ধর্মান্তর কার্য চালাতেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ছাঙ্গুর বাবা ধর্মান্তরিতদের টাকা দিতেন। আর সেই টাকার উৎসও মানুষ জানে না— এটা বিদেশ থেকে আসে না, বরং আমাদেরই কাছ থেকে আসে।”

এরপরেই যোগী আদিত্যনাথ ‘হালাল সার্টিফিকেশন’-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “যখনই কিছু কিনবেন, দেখে নেবেন যেন সেটায় হালাল সার্টিফিকেশন না থাকে। আজ সাবান, জামাকাপড় থেকে শুরু করে দেশলাই সবকিছুতেই হালাল ট্যাগ লাগানো হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হচ্ছে, অথচ এর কোনও সরকারি স্বীকৃতি নেই।”

যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন, “উত্তরপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই হালাল সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত পণ্যের বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং ভবিষ্যতে রাজ্যে কেউ এই ধরনের পণ্য বিক্রি করার সাহস দেখাবে না।” যোগীর অভিযোগ, “হালাল সার্টিফিকেটের মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ, ধর্মান্তর প্রচার এবং ‘লাভ জিহাদ’-এর কাজে।”

স্বদেশী পণ্য কেনার আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশকে আত্মনির্ভর করে তোলাই আমাদের প্রকৃত রাষ্ট্রধর্ম। বিদেশি বা বিভাজনমূলক প্রভাবমুক্ত হয়ে ভারতীয় শিল্পকেই সমর্থন করা উচিত।”

এর পাশাপাশি সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবকেও একহাত নেন যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর অভিযোগ, দীপাবলিতে প্রদীপ জ্বালানোর বিরুদ্ধে অখিলেশ যাদবের মন্তব্য প্রমাণ করে যে তাঁর অযোধ্যা, শ্রীরাম মন্দির এবং সনাতন সংস্কৃতির উৎসবের প্রতি ঘৃণা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “দেশজুড়ে প্রায় দুই কোটি মানুষ মাটির প্রদীপ ও বাসন তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত। অখিলেশের বক্তব্য শুধু ধর্মবিরোধী নয়, কুমোর এবং কৃষকদেরও অপমান।”

যোগী বলেন— “গদি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু বুদ্ধি নয়। যাদের বিবেক নেই, তাঁরাই দীপাবলির মতো আলোর উৎসবের বিরোধিতা করে।” 

তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু