Venezuelan Oil: ‘রুশ তেল নয়, আমেরিকার থেকে ভেনেজুয়েলার তেল কিনুন’, ভারতকে বললো হোয়াইট হাউস
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল ভান্ডার এখন কার্যত আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করবে আমেরিকাই। ক্রেতার তালিকায় ভারতও থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের আধিকারিকেরা।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে ভারতের জ্বালানি কূটনীতি। দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া থেকে কম দামে তেল কেনা নিয়ে ভারতের উপর অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিযোগ, ভারত রুশ তেল কিনে মস্কোর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে, যা পরোক্ষভাবে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সাহায্য করার সামিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। এমনকি, রুশ তেল কেনা বন্ধ না হলে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প।
যদিও শুল্ক ইস্যুতে এখনও ভারত-আমেরিকার মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে তা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ট্রাম্পের কড়া অবস্থানে এখনও কোনও নরম ভাব দেখা যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার তরফে প্রস্তাব, ভেনেজুয়েলার তেল কিনুন। শুল্ক আলোচনার সময় ভারতীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি ধীরে ধীরে রুশ তেল আমদানি কমাচ্ছে। কিন্তু ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে জ্বালানির যে বিপুল চাহিদা, তা মেটাতে নতুন উৎস প্রয়োজন। সেই জায়গায় ভেনেজুয়েলার তেলকে বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভারতকে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করতে তারা প্রস্তুত। আমেরিকার জ্বালানি দপ্তরের সচিব ক্রিস রাইট বলেন, শুধু ভারত নয়, বিশ্বের প্রায় সব দেশকেই ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করতে আগ্রহী আমেরিকা। তাঁর কথায়, “ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করাই আমাদের লক্ষ্য। প্রথমে মজুত থাকা তেল বিক্রি করা হবে, তার পরে নতুন করে তেল উত্তোলন করে তা বাজারে আনা হবে।”
তবে ভারত আদৌ ভেনেজুয়েলার তেল কিনতে আগ্রহী কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট বার্তা দেয়নি নয়াদিল্লি।
এদিকে ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানও ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে বন্দি করার ঘটনার পরই ট্রাম্প বুঝিয়ে দেন, ভেনেজুয়েলার তেলের উপর তাদের নজর রয়েছে। ওয়াশিংটন চায় না, ভেনেজুয়েলা চিন বা রাশিয়ার কাছে তেল বিক্রি করুক। ট্রাম্প প্রশাসনের শর্ত, ভেনেজুয়েলার তেল ব্যবসা শুধুমাত্র আমেরিকার সঙ্গেই করতে হবে।
ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ ক্যারোলিন জানান, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ আপাতত আমেরিকার কোষাগারে জমা হবে। তাঁর দাবি, এর ফলে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলা—দু’দেশের সাধারণ মানুষেরই উন্নতি হবে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ভারত যদি সত্যিই রুশ তেল আমদানি কমিয়ে ভেনেজুয়েলার তেলের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তা হলে কি আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্কের বোঝা কমাবে? নাকি তেল কূটনীতি ও শুল্ক চাপ—দু’দিক থেকেই ভারতের উপর চাপ বজায় রাখবে ওয়াশিংটন?


