T20 World Cup 2026: ৪ পাকিস্তান–বংশোদ্ভুত মার্কিন ক্রিকেটারের ভিসা প্রসেসিংয়ে আছে, বাতিল করা হয়নি, জানালো ICC
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: আসন্ন টি–২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আগে নতুন করে বিতর্কে ভিসা প্রক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্র দলে থাকা পাকিস্তান–বংশোদ্ভুত ৪ জন ক্রিকেটার নাকি ভারতে প্রবেশের অনুমতি পাননি—এমন দাবিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটমহলে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তবে ভিসা ‘বাতিল’ নয়, বরং প্রক্রিয়াধীন।
এই বিতর্কের সূত্রপাত মার্কিন পেসার আলি খানের একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি থেকে। সেখানে এক সতীর্থের সঙ্গে খাবার টেবিলে বসে থাকা ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন— “Indian visa denied but winning with KFC!”। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় জল্পনা। কারণ সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি টি–২০ বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। হাতে সময় এক মাসেরও কম।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুতই তা আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। অনেকেই ধরে নেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সরাসরি মার্কিন দলের পাকিস্তান–বংশোদ্ভুত ক্রিকেটারদের ভিসা নাকচ করেছে।
তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিন্ন ছবি সামনে আসে। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ (Cricbuzz)–এর একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়, ভিসা আদৌ ‘ডিনায়েড’ হয়নি। বরং প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র দলের ৪ পাকিস্তান–বংশোদ্ভুত ক্রিকেটার—আলি খান, শায়ান জাহাঙ্গির, মহম্মদ মহসিন ও এহসান আদিল—শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনে নির্ধারিত সময়েই ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে হাজির হন। ICC সূত্র জানায়, সাক্ষাৎকারের আগেই প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দেওয়া হয়েছিল।
তবে সাক্ষাৎকারের সময় জানানো হয়, এই মুহূর্তে ভিসা চূড়ান্ত করা সম্ভব নয়। কারণ ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে কিছু অতিরিক্ত যাচাই–সংক্রান্ত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। সেই তথ্য এলে আবেদনকারীদের ফের যোগাযোগ করা হবে। অর্থাৎ, সরকারি স্তরে কোথাও সরাসরি ‘না’ বলা হয়নি।
ভারতের ভিসা নীতিতে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী কোনও ব্যক্তি, তিনি বর্তমানে যে দেশের নাগরিকই হন না কেন, ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে জন্মভূমি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দিতে হয়। এই কারণে পাকিস্তান–বংশোদ্ভুত আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও যাচাই প্রক্রিয়া তুলনায় বেশি সময় নেয়।
এই নিয়ম শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। আইসিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কানাডা, ওমান, ইতালি–সহ একাধিক দেশের দলে থাকা পাকিস্তান–বংশোদ্ভুত ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ভিসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়ে থাকে।
অতীতেও এমন একাধিক নজির রয়েছে। ২০১৯ সালে জুলফিকার ভাইরা—সিকন্দর ও সাকিব। ২০২৩ বিশ্বকাপে শিরাজ আহমেদের ভিসা দেরিতে মেলায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার উসমান খোয়াজা, ইংল্যান্ডের রেহান আহমেদ ও শোয়েব বশিরের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সময়ে ভারত সফরে একি চিত্র দেখা গেছে।
বর্তমানে মার্কিন ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কায় প্রস্তুতি শিবিরে রয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বকাপের সূচি ও প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়তে পারে। যদিও আইসিসি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলিকে ভিসা সংক্রান্ত সমস্ত সহযোগিতা করা হচ্ছে। একাধিক দেশের ক্রিকেটার পাক বংশোদ্ভূত হওয়ায় দেরি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘ভিসা বাতিল’ নয়, বরং ‘ভিসা ঝুলে আছে’ এটা আসল ঘটনা।


