Monday, March 30, 2026
কলকাতা

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: রাজ্যে ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা। গত প্রায় আড়াই মাসে এক ডজনেরও বেশি এমন ঘটনা সামনে আসায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারতীয় রেল। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একদিকে যেমন নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে আইন অনুযায়ী কড়া শাস্তির কথাও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন নয়—বরং নির্দিষ্ট কিছু রুট এবং এলাকায় বারবার ঘটছে। বিশেষ করে শহরতলি ও গ্রামীণ এলাকার মধ্যবর্তী লাইনে এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে, যেখানে ট্রেনের গতি তুলনামূলক কম থাকে এবং ট্র্যাকের ধারে সহজে পৌঁছনো যায়।

সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, একাধিক জেলায় এই সমস্যা মাথাচাড়া দিয়েছে—

উত্তর ২৪ পরগনা: বারাসত, হাবরা ও বসিরহাট লাইনে একাধিকবার পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। জানলার কাঁচ ভেঙে যাত্রী আহত হওয়ার খবর মিলেছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সোনারপুর–ক্যানিং শাখায় চলন্ত লোকাল ট্রেনে পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে।

হাওড়া ডিভিশন: বালি, লিলুয়া ও দাসনগর সংলগ্ন এলাকায় ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।

হুগলি ও নদিয়া: ব্যান্ডেল–নৈহাটি এবং রানাঘাট লাইনে এমন একাধিক ঘটনা রেলের নজরে এসেছে।

এইসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই জানলার কাঁচ ভেঙে গিয়ে মুখ, চোখ বা মাথায় গুরুতর চোট লেগেছে।

রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯ অনুযায়ী ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করা গুরুতর অপরাধ। আইনের ধারা ১৫২ অনুযায়ী, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রেনের দিকে পাথর বা অন্য বস্তু ছোড়ে এবং তাতে যাত্রীদের ক্ষতি বা বিপদের সম্ভাবনা তৈরি হয়, তাহলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।

রেলের কড়া নজরদারি ও পদক্ষেপ ।পরিস্থিতি সামাল দিতে রেল ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে—

রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) ও GRP-এর যৌথ টহল বাড়ানো হয়েছে ,

সংবেদনশীল এলাকায় সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে,

স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে , 

স্কুল-কলেজ ও স্থানীয় এলাকায় সচেতনতা শিবির করা হচ্ছে।

রেল কর্তৃপক্ষের মতে, অনেক ক্ষেত্রে কিশোরদের দুষ্টুমি বা অসচেতনতার কারণেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তবে এর পরিণতি যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা বোঝাতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

ট্রেনে পাথর ছোড়া কোনও হালকা বিষয় নয়—এটি সরাসরি মানুষের প্রাণনাশের কারণ হতে পারে। তাই রেলের এই কড়া অবস্থান সময়োপযোগী বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোই এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে।