Monday, January 19, 2026
Latestরাজ্য​

Madhubanti Mukherjee: লগ্নজিতার পর এবার মধুবন্তী, ‘তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো’ গাইতে বাধা, কেড়ে নেওয়া হয় মাইক্রোফোন; ‘সময় থাকতে সতর্ক হোন’, বার্তা সঙ্গীতশিল্পীর

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে সঙ্গীতশিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তীকে হেনস্থার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক সঙ্গীতশিল্পীকে গান গাইতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল। উত্তরপাড়ার বাসিন্দা, সঙ্গীতশিল্পী মধুবন্তী মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ‘মাজদিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করার সময় তাঁর হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং এই ধর্মের গান শুনবো না।’

মধুবন্তী মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘গত ২১ ডিসেম্বর নদিয়ার মাজদিয়ায় একটি মেলায় আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে তিনি গান পরিবেশন করছিলেন। মঞ্চে তিনি ‘তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো’ গানটি পরিবেশন করেন। দর্শকরাও সেই গান উপভোগ করছিলেন। কিন্তু গান শেষ হওয়ার পরই আচমকা এক ব্যক্তি মঞ্চে উঠে এসে তাঁর হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেন এবং বলেন, “এই ধর্মের গান আমরা শুনব না। জাতপাতের গান চলবে না।”

এই ঘটনার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরে মধুবন্তী মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমি এবং আমার মিউজিসিয়ানরা রীতিমতো হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। জীবনে এই প্রথম এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলাম। একজন শিল্পী হিসেবে এটা অত্যন্ত অপমানজনক।”

ঘটনার পর আয়োজকরা দ্রুত ওই ব্যক্তিকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে দেন। মধুবন্তী জানান, ‘কমিটির প্রধান সদস্য মাইকে ঘোষণা করেন যে শিল্পী নিজের ইচ্ছামতো গান পরিবেশন করবেন, যাদের ভালো লাগবে না তারা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে পারেন।’

এ বিষয়ে মাজদিয়া মেলা কমিটির সম্পাদক দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, “ঘটনাটি আমাদের কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক। সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মেলা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের আচরণ কাম্য নয়, হওয়াও উচিত হয়নি।”

তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি মধুবন্তী মুখোপাধ্যায়। যদিও ফেসবুক লাইভে এসে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “পাশের দেশে সংস্কৃতি যেভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে, সেই ছবি আমরা দেখেছি। এরা এখন বলছে কৃষ্ণের ভজন গাওয়া যাবে না, মায়ের গান গাওয়া যাবে না। এরা এখন সংখ্যায় কম রয়েছে। সময় থাকতে সতর্ক হোন। যদি এই ধরনের ঘটনা চলতেই থাকে, তাহলে আমাদের গান গাওয়াই একদিন বন্ধ হয়ে যাবে এই আশঙ্কা থেকেই যায়।”

উল্লেখ্য, গত শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হন সঙ্গীতশিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তী। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত মেহবুব মল্লিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।

মাজদিয়ার ঘটনার পর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। বিজেপি নেতা প্রণয় রায় অভিযোগ করেন, “এক সময় পশ্চিমবঙ্গ ছিল শিল্প-সংস্কৃতির পীঠস্থান। আজ শিল্পীদের বলা হচ্ছে কী গান গাইবেন, কী গাইবেন না। এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্যের শাসক দলই দায়ী।”

পরপর দুই সঙ্গীতশিল্পীকে হেনস্থার অভিযোগ সামনে আসায় রাজ্যে শিল্পী নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।