Sarita Yolmo: টয় ট্রেনের ইতিহাসে প্রথম মহিলা টিটিই, ইতিহাস গড়লেন গোর্খা-কন্যা সরিতা
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (DHR) ১৪৫ বছরের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হল। এই প্রথমবার হেরিটেজ টয় ট্রেনে মহিলা টিটিই (টিকিট কালেক্টর) হিসেবে দায়িত্ব পেলেন গোর্খা-কন্যা সরিতা ইয়োলমো (৫৫)। নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত চলা ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনের সিনিয়র সিটিসি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন তিনি।
দার্জিলিংয়ের সোনাদায় জন্ম সরিতার। বর্তমানে কর্মসূত্রে শিলিগুড়ির দাগাপুরের পঞ্চনই এলাকায় থাকেন সরিতা। এনজেপি স্টেশনে সিটিসি হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। রাজধানী এক্সপ্রেস, গুয়াহাটি-বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস, অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের মতো দূরপাল্লার গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তবে হেরিটেজ টয় ট্রেনের সঙ্গে নাম জুড়বে এ কথা তিনিও ভাবেননি।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, টিটিই পেশায় সাধারণত মহিলাদের সংখ্যা কম। দীর্ঘ সময় ডিউটি, নির্দিষ্ট থাকা-খাওয়ার অভাব এবং অনিয়মিত কর্মঘণ্টার কারণেই অনেকেই এই দায়িত্ব নিতে চান না। সেই প্রেক্ষাপটে সরিতার এই নিয়োগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সরিতা বলেন, “টিকিট কালেক্টর হিসেবে ট্রেনে ট্রেনে ঘোরার অভিজ্ঞতা আগেই হয়েছে। দূরপাল্লার ট্রেনেও ডিউটি করেছি। তবে হেরিটেজ টয় ট্রেনে এ বারই প্রথম।” তিনি আরও বলেন, “প্রথম মহিলা হিসেবে টয় ট্রেনের ইতিহাসে নাম লেখাতে পারা গর্বের। যে পাহাড়ের কোলে জন্ম ও বেড়ে ওঠা, সেই পাহাড়ের পাকদণ্ডী বেয়ে চলা টয় ট্রেনে ডিউটি করা দারুণ উপভোগ্য।”
উল্লেখ্য, ইউনেস্কো স্বীকৃত দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে শুধু ঐতিহ্যের প্রতীকই নয়, পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণও বটে। শতাব্দী প্রাচীন স্টিম ইঞ্জিনের পুনরুজ্জীবন থেকে শুরু করে পর্যটক আকর্ষণে নতুন পরিষেবা বছরভর নানা উদ্যোগ নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। আয়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সাফল্য মিলেছে বলে জানা গিয়েছে।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, “এর আগে টয় ট্রেনে মহিলা টিকিট কালেক্টর থাকার কোনও রেকর্ড ছিল না। সরিতা ইয়োলমোর এই কৃতিত্ব ভবিষ্যতে আরও মহিলাকে উৎসাহ দেবে।”
ঐতিহ্যের সঙ্গে নারীর অগ্রযাত্রার এই সংযোগ নিঃসন্দেহে দার্জিলিং টয় ট্রেনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।


