Friday, January 9, 2026
Latestদেশ

Turkman Gate: দিল্লির তুর্কমান গেটে প্রথম বুলডোজার চালিয়েছিলেন সঞ্জয় গান্ধী, ৫ দশক পর ফিরলো সেই স্মৃতি

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: আদালতের নির্দেশে দিল্লির তুর্কমান গেটে উচ্ছেদ অভিযান। দিল্লি পুরসভা (MCD) অভিযানে নামতেই পুলিশের উপর ইট-পাথর ও কাচের বোতল ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় অন্তত ৫ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। হিংসার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ মহিবুল্লাহ নাদভি। তিনি জনতাকে উসকানি দেন বলে অভিযোগ।

কীভাবে ছড়াল হিংসা

দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে ফৈজ-ই-ইলাহি মসজিদ ও সংলগ্ন কবরস্তানের পাশের জমিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। মঙ্গল ও বুধের মধ্যবর্তী রাত আনুমানিক ১টা নাগাদ অভিযান শুরু হয়। প্রায় ১০০ বছরের পুরনো একাধিক অবৈধ নির্মাণ ভাঙা হয়।

এই সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও কাচের বোতল ছোড়া হয়। আহত হন অন্তত ৫ জন পুলিশকর্মী।

পুলিশ জানিয়েছে, পাথর ছোড়ার ঘটনায় অভিযুক্তদের নাম আদিল কাসিম, মহম্মদ কাইফ, মহম্মদ আরিব, উজাইফ, আজিম ও ইরফান। এছাড়াও আদনান ও সামির নামে দুই ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও ও অডিও বার্তা ছড়িয়ে হিংসা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ।

তুর্কমান গেটে প্রথম বুলডোজার চালিয়েছিলেন সঞ্জয় গান্ধী

১৯৭৬ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পুত্র সঞ্জয় গান্ধী তুর্কমান গেট পরিদর্শনে এসে বলেছিলেন, আমি চাই, তুর্কমান গেট থেকে যেন জামা মসজিদ স্পষ্ট দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন ডিডিএ ভাইস চেয়ারম্যান জগমোহন মালহোত্রা।

সেই নির্দেশের পরেই তুর্কমান গেট থেকে জামা মসজিদের মধ্যবর্তী সমস্ত বস্তি ও নির্মাণ ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৩ এপ্রিল, ১৯৭৬-এ বুলডোজার পৌঁছায় এলাকায়।

১৯ এপ্রিল প্রায় ৫০০ মহিলা সন্তানদের নিয়ে উচ্ছেদস্থলে জড়ো হন। হাতে কালো ফিতে বেঁধে তারা বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয় সিআরপিএফ। উত্তেজিত জনতা পাথর ছুড়লে পুলিশ গুলি চালায়। সরকারি নথিতে ৬ জনের মৃত্যুর কথা থাকলেও, প্রবীণ সাংবাদিক কুলদীপ নায়ার তাঁর বই The Judgement-এ লেখেন, পুলিশের গুলিতে প্রায় ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

শাহ কমিশনের তথ্য

জরুরি অবস্থার সময় উচ্ছেদ অভিযানের তদন্তে গঠিত শাহ কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে শুধু দিল্লিতেই ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়। বাস্তুচ্যুত হন প্রায় ৭ লাখ মানুষ।

ফের সেই তুর্কমান গেট, বুলডোজার চললো

৬–৭ জানুয়ারি গভীর রাতে ফৈজ-ই-ইলাহি মসজিদের কাছে ৩২টি বুলডোজার নিয়ে অভিযান চালানো হয়। প্রায় ৫ দশক পর ফের সেই তুর্কমান গেট, ফের বুলডোজার—ফিরলো পুরনো সেই স্মৃতি।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে