দিল্লি বিস্ফোরণকান্ডে জড়িত আরও এক চিকিৎসককে আটক করলো ATS
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: রাজধানীতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর তদন্তে নেমে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বৃহস্পতিবার ভোরে উত্তরপ্রদেশের কানপুর থেকে এক চিকিৎসককে আটক করেছে সন্ত্রাসদমন শাখা (এটিএস)। আটক চিকিৎসকের নাম মহম্মদ আরিফ।
সূত্রের খবর, কানপুরের অশোকনগর এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে বসবাস করতেন তিনি। এনআইএ-র সন্দেহ, দিল্লি বিস্ফোরণে জড়িত চিকিৎসক শাহিন শাহিদ ও উমর উন-নবির সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
এটিএস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরিফকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বেশ কিছু অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা এনআইএ-র নজরে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, শাহিন ও উমরের সঙ্গে আরিফ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একাধিকবার যোগাযোগ করেছিলেন এবং বিস্ফোরণের পরিকল্পনা সংক্রান্ত বার্তাও আদানপ্রদান করেছেন।
উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লার কাছে একটি সাদা রঙের গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়। ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন উমর উন-নবি ওরফে উমর মহম্মদ, যিনি পেশায় চিকিৎসক। বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগে ফরিদাবাদে তল্লাশি চালিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর ও হরিয়ানার যৌথ পুলিশ দল বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছিল। এরপর থেকেই বিস্ফোরণচক্রের নেপথ্যে থাকা চিকিৎসক নেটওয়ার্ক নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোয়েন্দা মহলে।
আগামী ৬ ডিসেম্বর দিল্লির ছয় থেকে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করেছিল শাহিন, উমর ও তাদের সহযোগীরা। ইতিমধ্যেই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে এনআইএ। সংস্থার কর্মকর্তারা আশা করছেন, কানপুর থেকে আটক মহম্মদ আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই নাশকতার পেছনে থাকা পুরো মডিউলটি উন্মোচিত হতে পারে।
তদন্ত সংস্থা সূত্রে খবর, বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন চিকিৎসকই পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন। এনআইএ বর্তমানে শাহিন শাহিদ ও তার সহযোগীদের আর্থিক লেনদেন, অনলাইন যোগাযোগ এবং বিদেশি সংযোগ খতিয়ে দেখছে।
রাজধানীর কেন্দ্রে এমন নাশকতার ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে দিল্লি ও আশপাশের রাজ্যগুলিতে। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।


