Sunday, January 11, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

Iranian Embassy in London: লন্ডনে ইরানি দূতাবাসে উড়লো প্রাক-ইসলামিক সিংহ-সূর্যের পতাকা

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ইরানে চলমান বিক্ষোভ ক্রমশই বাড়ছে। মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও তীব্র আর্থিক সংকট থেকে জন্ম নেওয়া প্রতিবাদ এখন আর শুধুই অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিক্ষোভকারীদের একাংশ শিকড়ে ফিরে যাওয়ার ডাক দিচ্ছেন। প্ল্যাকার্ড ও পোস্টারে ধ্বনিত হচ্ছে স্লোগান, ‘আমি মুসলিম নই, আমি পার্সি’। এই বিদ্রোহের আগুন এবার ইরানের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছে ইউরোপেও।

তেহরানের বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে লন্ডনের রাস্তায় নামেন প্রবাসী ইরানিরা। গত কয়েক দিন ধরে কেনসিংটনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের সামনে চলছিল লাগাতার প্রতিবাদ। আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে স্লোগান, হাতে পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড— গোটা এলাকা পরিণত হয় প্রতিবাদের মঞ্চে। শনিবার সেই বিক্ষোভই নেয় নাটকীয় মোড়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিক্ষোভ চলাকালীন আচমকাই এক ব্যক্তি ইরানি দূতাবাসের দোতলার বারান্দায় উঠে পড়েন। সেখানে টাঙানো বর্তমান ইরানি জাতীয় পতাকা খুলে ফেলে তিনি উড়িয়ে দেন ইসলামিক বিপ্লবের আগের ঐতিহাসিক সিংহ-সূর্যের পতাকা। এই ঘটনার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


ঘটনার জেরে দু’জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ। আরও দু’জনের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় কেনসিংটনে প্রায় ৫০০ থেকে ১০০০ মানুষ জমায়েত করেছিলেন। যদিও গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই ইরানি দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে। সেখানে দূতাবাস ভবনে জাতীয় পতাকা ফের টাঙানো অবস্থায় দেখা যায়। ক্যাপশনে লেখা হয়— ‘ইরানের পতাকা গর্বের সঙ্গে উড়ছে।’ তবে এই পোস্টও নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়।

বিক্ষোভকারীদের মতপ্রকাশের অধিকারের পক্ষে সওয়াল করেছেন ব্রিটেনের বিদেশ সচিব ইয়েভেট কুপার। তিনি বলেন, ‘নিজের মত প্রকাশ করা মানুষের মৌলিক অধিকার। তার জন্য কাউকে শাস্তি বা হুমকির মুখে পড়তে হবে কেন?’ তাঁর এই মন্তব্য কূটনৈতিক মহলেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শুধু লন্ডন নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই ইরানি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জার্মানির বার্লিনে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পহেলভির ছবি হাতে মিছিল করেন শতাধিক বিক্ষোভকারী। তাঁদের দাবি, ইসলামিক শাসন ব্যবস্থা ইরানের ঐতিহ্য ও সভ্যতাকে ধ্বংস করেছে।

উল্লেখ্য, সিংহ-সূর্যের পতাকা পারস্য সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। কাজার রাজবংশ থেকে পহেলভি শাসনকাল পর্যন্ত এই হলুদ পতাকাই ছিল ইরানের জাতীয় পরিচয়ের অংশ। তলোয়ারধারী সিংহের পিছনে উদিত সূর্য— শক্তি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো এই নিশান। কিন্তু ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর সেই পতাকা বাতিল করে চালু করা হয় বর্তমান জাতীয় পতাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিংহ-সূর্যের পতাকা ফের উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নিছক প্রতীকী প্রতিবাদ নয়। এটি ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গভীর অসন্তোষের প্রকাশ। ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট যে আন্তর্জাতিক মাত্রা পাচ্ছে, লন্ডনের এই ঘটনা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।