Friday, February 13, 2026
Latestরাজ্য​

গঙ্গায় কমছে দূষণ, বাড়ছে ডলফিন

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: গঙ্গার বুকে আবারও ভেসে উঠছে গাঙ্গেয় ডলফিন। এক সময়ের বিলুপ্তপ্রায় এই স্তন্যপায়ী প্রাণীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে শুরু করেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। নদীর বিভিন্ন গতিপথে ডলফিনের ঘন ঘন দেখা মিলছে, যা গঙ্গার জলের মানোন্নয়নের স্পষ্ট ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজ্য সরকারের দাবি, ‘স্টেট মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা’ প্রকল্পের অধীনে গত কয়েক বছরে নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের ফলেই এই ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে পয়ঃশোধন ব্যবস্থার সম্প্রসারণে বড় সাফল্য এসেছে। গত পাঁচ বছরে অতিরিক্ত ৫৫৪ মিলিয়ন লিটার প্রতিদিন শোধন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩২টি পয়ঃশোধনাগার (এসটিপি) চালু হয়েছে। এর ফলে অপরিশোধিত নিকাশি জল সরাসরি গঙ্গায় পড়ার পরিমাণ কমেছে।

তথ্য অনুযায়ী, গঙ্গার জৈব-রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (BOD) উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০১৮ সালে যেখানে এই মাত্রা ছিল ১২ মিলিগ্রাম/লিটার, ২০২২ সালে তা নেমে আসে ৮ মিলিগ্রাম/লিটার। বর্তমানে তা ৩ মিলিগ্রাম/লিটারেরও নিচে নেমে এসেছে। এই পরিবর্তন নদীর জলের মানোন্নয়নের দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা, মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ ও জঙ্গিপুর এবং উত্তর ২৪ পরগনার উত্তর ব্যারাকপুরে চারটি নতুন এসটিপি চালু হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এর ফলে ফারাক্কা থেকে ডায়মন্ড হারবার পর্যন্ত হুগলি নদীর অংশ এখন ‘সবচেয়ে কম দূষিত’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে।

এছাড়া হুগলির বৈদ্যবাটিতে আঞ্চলিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র চালু হওয়ায় কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও উন্নতি হয়েছে। গঙ্গায় ফিকাল কলিফর্মের মাত্রা কমাতে এই কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানা গিয়েছে।

গাঙ্গেয় ডলফিন, যা ভারতের জাতীয় জলজ প্রাণী হিসেবে স্বীকৃত, সাধারণত স্বচ্ছ ও অক্সিজেনসমৃদ্ধ জলে বসবাস করে। ফলে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি শুধু পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিতই নয়, নদী ব্যবস্থার সুস্থতারও প্রতিফলন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলফিনের উপস্থিতি নদীকেন্দ্রিক পরিবেশ-পর্যটনের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দিতে পারে। গঙ্গাসাগর পর্যন্ত ‘প্রজেক্ট ডলফিন’-এর আওতায় গণনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে।

সব মিলিয়ে, গঙ্গায় গাঙ্গেয় ডলফিনের ফিরে আসা এক বড় সুখবর। দীর্ঘদিনের দূষণ সমস্যার মধ্যে এই ইতিবাচক পরিবর্তন রাজ্যের পরিবেশ নীতির কার্যকারিতা তুলে ধরছে এবং ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী বার্তা দিচ্ছে।