‘পশ্চিমবঙ্গে নোংরা রাজনীতি করছে তৃণমূল, অহংকারই এদের পতন ডেকে আনবে’, রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে তোপ মোদীর
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: উত্তরবঙ্গে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জাতীয় রাজনীতি। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হল কেন্দ্র। এ নিয়ে শনিবার তোপ দেগেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। রবিবারও সেই সুর বজায় রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘নোংরা রাজনীতি’র অভিযোগ তুললেন তিনি।
দিল্লিতে এক মেট্রো করিডরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে নোংরা রাজনীতি করছে তৃণমূল (TMC)। অহংকারই এদের পতন ডেকে আনবে।” তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদাধিকারীর অনুষ্ঠান বয়কট করে সংবিধানের অপমান করেছে তৃণমূল।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, সাঁওতাল সম্প্রদায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলায় গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে তাঁকে সম্মান জানানো তো দূরের কথা, রাজ্যের শাসক দল অনুষ্ঠানটিকে বয়কট করেছে। মোদীর কথায়, “এটা শুধু রাষ্ট্রপতির অপমান নয়, ভারতের সংবিধানেরও অপমান।”
শনিবার উত্তরবঙ্গে আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল সাঁওতাল কনফারেন্সে (International Santali Conference) যোগ দিতে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, অনুষ্ঠানের জন্য রাজ্য প্রশাসন ছোট জায়গা দিয়েছে বলে তাঁর কাছে অভিযোগ এসেছে। পাশাপাশি শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন করা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ম্যাডাম এলেন না। আমি দুঃখ পেয়েছি। হয়তো আমার উপরে রাগ করেছেন।”
রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়। কলকাতার ধর্মতলায় ধর্না মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতিকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু তাঁকে দিয়েও রাজনীতি বেচতে পাঠানো হয়েছে। ক্ষমা করবেন ম্যাডাম, আপনি বিজেপির পলিসির ফাঁদে পড়ে গিয়েছেন।”
এর পরেই সামাজিক মাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী। নিজের X হ্যান্ডলে তিনি এই ঘটনাকে “লজ্জাজনক ও নজিরবিহীন” বলে মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, “সব সীমা পার করে গিয়েছে তৃণমূল।”
এক্সে মোদী বাংলায় লিখেছেন, “এটি লজ্জাজনক এবং অভুতপূর্ব। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী। এটিও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এতো হালকাভাবে দেখছে।
রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং এই পদের গরিমা সর্বদা রক্ষা করা উচিত। আশা করা যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।”
অন্যদিকে রবিবার ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে আবারও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের আয়োজকরা রাজ্য সরকারকে কিছুই জানাননি। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, অনুষ্ঠানটি এয়ারপোর্ট অথরিটির জমিতে হয়েছিল, ফলে সেই আয়োজনের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের সরাসরি কোনও ভূমিকা ছিল না।
রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Legislative Assembly election 2026) সামনে রেখে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে।


