Tuesday, March 10, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

ইসলামাবাদে আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার করলো পাকিস্তান তালিবান

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা। মঙ্গলবার দুপুরে জি-১১ এলাকার জেলা ও দায়রা আদালত ভবনের বাইরে ঘটে এই বিস্ফোরণ। ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ৩৬ জন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষ। হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তান তালিবান বা টিটিপি।

হামলার সময় রাজধানীতে চলছিল একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন— আন্তপার্লামেন্টারি কনফারেন্স এবং ষষ্ঠ মারগাল্লা ডায়ালগ। পাশাপাশি প্রতিবেশী শহর রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ম্যাচ।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি জানিয়েছেন, আত্মঘাতী হামলাকারী প্রায় ১২ মিনিট ধরে আদালত ভবনের বাইরে অবস্থান করছিলেন। তিনি প্রথমে আদালতের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন, কিন্তু বাধা পেয়ে পুলিশের একটি গাড়ির সামনে বিস্ফোরণ ঘটান। নাকভি বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত আত্মঘাতী হামলা। জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নিচ্ছেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানিয়েছেন তার দফতর। তবে হামলার জন্য তিনি ভারতের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে শাহবাজ লেখেন, “ইসলামাবাদে এই হামলা ভারত পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণ।”

অন্যদিকে, এক বিবৃতিতে পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) দাবি করেছে, ইসলামাবাদের বিচারিক কমিশনকে লক্ষ্য করেই তাদের যোদ্ধারা এই হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, পাকিস্তানের ‘অইসলামি বিচারব্যবস্থার’ বিরুদ্ধে এটি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ। টিটিপির হুমকি, দেশটিতে যদি দ্রুত শরিয়াহ আইন চালু না করা হয়, তবে আরও এমন হামলা হবে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আদালত ভবনের বাইরে আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি গাড়ি থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী রুস্তম মালিক বলেন, “আমি গাড়ি রেখে আদালতে ঢোকার সময়ই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। ফটকের কাছে দুটি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখি। কয়েকটি গাড়ি তখন জ্বলছিল।”