T20 World Cup: বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করলো পাকিস্তান
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: টি-২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটাল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট না করে ভারতের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। পিসিবি সূত্রে খবর, পাক সরকার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে নামবে না পাকিস্তান।
সম্প্রতি বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে আইসিসি-র ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। সেই ঘটনার পর জল্পনা চলছিল, পাকিস্তানও হয়তো বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে পারে। তবে পুরো বিশ্বকাপ বয়কট করলে কঠোর আইসিসি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে—এই আশঙ্কাতেই ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ নীতি গ্রহণ করেছে পিসিবি।
পাক বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি আগেই জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া অন্যায়। আইসিসি-র অভ্যন্তরীণ ভোটাভুটিতেও পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল। বাংলাদেশকে ‘ছাঁটাই’ করার পর সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে ইসলামাবাদ। তবে পুরো টুর্নামেন্ট বয়কটের ঝুঁকি না নিয়ে কেবল ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জেরে সেই ম্যাচে অংশ নেবে না বাবর আজমের দল। ক্রিকেটীয় দিক থেকেও সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক নয়। সূর্যকুমার যাদবদের বিরুদ্ধে একাধিক সিরিজে পিছিয়ে পড়েছে পাক বাহিনী।
পুরো বিশ্বকাপ বয়কট করার মতো অবস্থানে নেই পাকিস্তান—এ কথাও স্বীকার করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। আইসিসি নিষেধাজ্ঞা দিলে পাকিস্তান কার্যত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একঘরে হয়ে পড়তে পারে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে অন্য দেশগুলির সফর বন্ধ হয়ে যেতে পারে, পাকিস্তান সুপার লিগে বিদেশি ক্রিকেটার পাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে। এমনকি এশিয়া কাপ থেকেও ছিটকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যদিও পিসিবি দাবি করছে, এই ম্যাচ বয়কট ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের’ ফল। তবুও আইসিসি এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। বিশ্বকাপ চলাকালীন পাকিস্তানের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উসকে দিল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


