Saturday, January 10, 2026
কলকাতা

ED Raids IPAC Office In Kolkata: আইপ্যাক অফিসে ইডির হানা, তড়িঘড়ি কোন ফাইল নিয়ে বেরিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা?

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টা নাগাদ কলকাতার ৭ নম্বর লাউডন স্ট্রিটে IPAC কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তল্লাশি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভর্মা। তার ঠিক ৫ মিনিটের ব্যবধানে নজিরবিহীনভাবে সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তল্লাশির মাঝেই তিনি সরাসরি প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢুকে পড়েন।

কিছুক্ষণ পর প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে সবুজ রঙের একটি ফাইল হাতে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। বাইরে এসে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। মমতার দাবি, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই তল্লাশি করিয়েছেন। তৃণমূলের স্ট্র্যাটেজি, প্রার্থী তালিকা ও নির্বাচনী পরিকল্পনার হার্ড ডিস্ক হাতিয়ে নিতেই ইডি অভিযান চালাচ্ছে।”

এরপরই মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, “ইডি এবার IPAC-এর সল্টলেক অফিসে যাচ্ছে।” এই মন্তব্য করেই মুখ্যমন্ত্রী গোদরেজ ওয়াটার সাইডে অবস্থিত IPAC অফিসের উদ্দেশে রওনা হন। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের সঙ্গে সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও সেখানে পৌঁছন।

সল্টলেকের গোদরেজ ওয়াটার সাইডে পৌঁছেই তৈরি হয় কার্যত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। সামনের সারিতে মহিলা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একাংশ দড়ি দিয়ে ঘিরে রাখা হয়, অন্য পাশে নজরে আসে একটি রহস্যময় সাদা গাড়ি। অভিযোগ, সেই গাড়িতেই অফিস থেকে নামিয়ে আনা গুচ্ছ গুচ্ছ ফাইল তোলা হচ্ছিল।

তল্লাশি চলাকালীনই বেসমেন্টে এসে দাঁড়ায় একটি সাদা SUV। দু’জন ব্যক্তি হাতে মোটা ফাইল নিয়ে এসে সেই গাড়িতে রাখেন। তাঁদের পরিচয় নিয়ে তখন ধোঁয়াশা তৈরি হয় তাঁরা IPAC-এর কর্মী নাকি পুলিশ বা অন্য কোনও সংস্থার সদস্য, তা স্পষ্ট ছিল না। ফাইলগুলি গাড়ির মাঝের সিটে রাখা হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে। সাংবাদিকদের মোটা দড়ি দিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে আটকে রাখা হয়, যাতে কেউ গাড়ির কাছে গিয়ে ফাইলের ছবি তুলতে না পারেন।

মুখ্যমন্ত্রী গোদরেজ ওয়াটার সাইডে প্রবেশের ঠিক ৫ মিনিটের মধ্যেই ওই দুই ব্যক্তি ফের মোটা মোটা ফাইল হাতে নীচে নামেন। সেই সময় এক জনের হাত থেকে একটি ফাইল মাটিতে পড়ে যায়। কভারের অংশ খুলে যেতেই দেখা যায়, ভেতরে থাকা একটি কাগজে লেখা ‘Government of West Bengal’। নথিটি জেরক্স কপি বলে অনুমান করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই ফাইলটি কুড়িয়ে নিয়ে দ্রুত গাড়িতে তোলা হয়, যাতে সংবাদমাধ্যম কোনও ছবি তুলতে না পারে।

সূত্রের খবর, কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলার নথি সংগ্রহ করতেই ইডি আধিকারিকরা এই তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। তবে তল্লাশির সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে তীব্র বচসা বাধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ডিসি সাউথ ও পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা।

এরপরই ফের প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, তদন্তে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে বাংলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালানো হচ্ছে।