Sunday, January 11, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

Makar Sankranti Bangladesh: ‘ইসলামে হারাম’! এবার মকর সংক্রান্তি বন্ধের ফতোয়া জারি ইউনূস সরকারের বাংলাদেশে

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: এবার মৌলবাদীদের রোষের মুখে হিন্দুদের অন্যতম প্রধান লোকউৎসব মকর সংক্রান্তি বা পৌষ পার্বণ। অভিযোগ, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই ইসলামিক মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি মকর সংক্রান্তি উৎসবকে ‘হারাম’ ঘোষণা করে ফতোয়া জারি করেছে। এর জেরে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা।

বাঙালির ১২ মাসে ১৩ পার্বণের মধ্যে অন্যতম মকর সংক্রান্তি। নতুন ধান ঘরে তোলার আনন্দে দুই বাংলাতেই যুগ যুগ ধরে এই উৎসব পালিত হয়ে এসেছে। পিঠেপুলি, নবান্ন, গ্রামীণ মেলা—সব মিলিয়ে এটি কেবল ধর্মীয় নয়, বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু চলতি বছরে বাংলাদেশে সেই উৎসবই প্রশ্নের মুখে।

হিন্দু এলাকায় পোস্টার, প্রচার—‘উৎসব পালন চলবে না’

স্থানীয় সূত্রে খবর, বাংলাদেশের একাধিক হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় পোস্টার ও প্রচারবার্তার মাধ্যমে জানানো হচ্ছে, মকর সংক্রান্তি পালন করা ইসলামের পরিপন্থী এবং তাই ‘হারাম’। মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলির তরফে হিন্দুদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দেওয়া হয়েছে, নিজেদের এলাকায় কোনওরকম উৎসব, জমায়েত বা আচার পালন করা যাবে না।

এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে সংখ্যালঘু হিন্দু সমাজের মধ্যে। অনেক পরিবার প্রকাশ্যে কোনও অনুষ্ঠান না করে ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

‘বাঙালি সংস্কৃতি মুছে ফেলার পরিকল্পিত চেষ্টা’

ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। বরং ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পরিকল্পিতভাবেই বাঙালি সংস্কৃতি ও সংখ্যালঘু অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে। এর আগেই সরস্বতী পুজোর ছুটি বাতিল এবং অমর একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক স্তরে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এবার সেই ধারাবাহিকতায় পৌষ পার্বণেও কোপ পড়ল।

হাসিনা সরকারের পতনের পর বাড়ছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ

২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে বলে দাবি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের। গত ৩৫ দিনে ১১ জন হিন্দুকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মন্দির ভাঙচুর, বাড়িঘরে হামলা এবং সামাজিক উৎসবে বাধা—এই সব ঘটনায় ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন হিন্দুরা।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

এই পরিস্থিতিতে ইউনূস সরকারের ভূমিকা নিয়েও উঠছে তীব্র প্রশ্ন। সমালোচকদের একাংশের মতে, মৌলবাদীদের সামনে কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে প্রশাসন। কেউ কেউ তো সরাসরি অভিযোগ করছেন, মৌলবাদীদের ‘শিখণ্ডী’ করে কট্টরপন্থাকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।

মকর সংক্রান্তির মতো লোকউৎসব যদি এভাবে নিষিদ্ধের মুখে পড়ে, তাহলে ভবিষ্যৎ আরও ভয়াবহ হতে চলেছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।