শ্রীহরিকোটায় আরও একটি লঞ্চপ্যাড তৈরি করছে ইসরো
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ গবেষণায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় নতুন একটি লঞ্চপ্যাড নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করল Indian Space Research Organization (ISRO)। ভবিষ্যতে আরও ভারী রকেট উৎক্ষেপণের লক্ষ্যেই এই তৃতীয় লঞ্চপ্যাড তৈরি করা হচ্ছে। পুরো স্পেসপোর্ট নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের উপযুক্ত করে তুলতে সময় লাগবে আনুমানিক ৪ বছর।
নতুন এই লঞ্চপ্যাড থেকে ১২ হাজার কেজি থেকে ১৪ হাজার কেজি ওজনের মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, এই মহাকাশযানগুলিকে বিভিন্ন অরবিটে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করার সক্ষমতাও থাকবে বলে জানিয়েছে ISRO।
সংবাদসংস্থা PTI-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে পুরো প্রকল্পটি প্রোকিওরমেন্ট পর্যায়ে রয়েছে। লঞ্চপ্যাড নির্মাণের জন্য উপযুক্ত ভেন্ডর বাছাইয়ের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের ডিরেক্টর ও বিশিষ্ট বিজ্ঞানী পদ্মকুমার ই এস জানিয়েছেন, প্রকল্পটির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজ চলছে। নতুন লঞ্চপ্যাড নির্মাণে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারটি প্রায় ১৭৫ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এবং চেন্নাই থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। ভারতের মহাকাশ গবেষণার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই স্পেসপোর্ট থেকে ইতিমধ্যেই কয়েকশো স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে দেশ। এর মধ্যে রয়েছে কমিউনিকেশন, ন্যাভিগেশন ও রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট।
নতুন লঞ্চপ্যাডটি চালু হলে সেটি হবে ISRO-র তৃতীয় লঞ্চপ্যাড। ISRO-র পরবর্তী প্রজন্মের রকেট উৎক্ষেপণে এই প্যাড ব্যবহার করা হবে। বর্তমানে শ্রীহরিকোটার দুটি লঞ্চপ্যাড থেকে PSLV, GSLV, LVM3 এবং অতিভারী পেলোডবাহী রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২৪ তারিখ সর্বশেষ উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে ISRO। ওইদিন সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে একটি রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বহন করছিল। ‘BlueBird Block 2’ নামের ওই স্যাটেলাইটটি লো-অরবিটে প্রতিস্থাপনের জন্য উৎক্ষেপণ করা হয়। ভূপৃষ্ঠ ত্যাগের মাত্র ১৫ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের মধ্যেই রকেট থেকে স্যাটেলাইটটি সফলভাবে বিচ্ছিন্ন হয়।
নতুন লঞ্চপ্যাড নির্মাণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভারী উৎক্ষেপণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মিশনে ভারতের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।


